29 May 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভোগান্তি চরমে, জেঁকে বসেছে শীত ।। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

Published:  
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভোগান্তি চরমে, জেঁকে বসেছে শীত ।। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

স্টাফ রিপোর্টার: পৌষের শেষ বেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে শীত। এর ওপর মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে দ্বিগুণ। আকাশে মেঘ থাকায় দুপুর ১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে নগরজীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ছন্দপতন ঘটেছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুরসহ শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃষ্টির কারণে ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়ায় সকালে স্কুলগামী শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের বেগ পেতে হয়েছে। বৃষ্টির জন্য সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমহন সরকারি স্কুল মাঠের উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় কমেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী অঞ্চলে গত সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা নামতে থাকে। তবে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্য ওঠানামা করছে। এর মধ্যে কেবল গত ৮ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা বেশি নিচে নামেনি। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে এও জানা যায়, ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীসহ উত্তারাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকে দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদিনই এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির পর আকাশে মেঘ কেটে গেলে মাঝারি কুয়াশা পড়বে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে শীতের দাপট বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলার পাঁচ উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। ঠাণ্ডা, জ্বর-সর্দী, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ নিয়ে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন বেশিরভাগ রোগী।

এ ব্যাপারে  চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক মেডিকেল অফিসার ও বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ইসরাফিল ইসলাম জানান, শীতের সময় বৃষ্টিপাতে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া, হাইপোথার্মিয় হতে পারে। বড়দেরও হাঁপানি, শাসকষ্ট এমনকি ফ্রস্টবাইট হতে পারে। এছাড়াও পানিবাহিত রোগও হবার সম্ভবনা থাকে।

ডাঃ ইসরাফিল আরো জানান, এ সময় বৃষ্টির পানি যেন মাথা ও শরীরে না পড়ে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গরম পোষাক পরিধান ও ঠান্ডা-বাসি খাবার না খাওয়া। ঘরের তাপমাত্রা গরম রাখার ব্যাপারেও তিনি পরামর্শ দেন।