25 February 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য ।। প্রতিমাসে ৪০ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন

Published:  10 January 2017
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য ।। প্রতিমাসে ৪০ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন

ফারুক আহমেদ চৌধুরী: চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চলছে লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য, ঘুষছাড়া মিলছেনা কারো পাসপোর্ট। চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ। অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও পিয়ন আনসারের কাছে জিম্মি আবেদনকারিরা। বহিরাগত দালালদের দৌরাত্বের পাশাপাশি অফিসের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে পাসপোর্ট প্রার্থীদের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগী আবেদনকারীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক আবেদনকারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৩,৪৫০/- টাকা ও জরুরি পাসপোর্ট এর জন্য ৬,৯০০/- টাকা সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দিতে হয়। নিয়মানুযায়ী সাধারণ পাসপোর্ট এক মাস ও জরুরি পাসপোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের কথা। কিন্তু এই নিয়মের বালায় নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। আবেদনের সাথে উৎকোচের টাকা পাওয়া গেছে কিনা সেটি মূখ্য বিষয়। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল মানুষগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন কায়দায় হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

দেশের ৩৩ জেলায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস স্থাপনের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস স্থাপন করা হয়। তবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে এই পাসপোর্ট অফিস। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। এছাড়াও দালালদের দৌরাত্বে গ্রাহক ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের ঘটনা। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি এখন ওপেনসিক্রেট। গ্রামগঞ্জ থেকে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারন মানুষগুলোই বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছে। গ্রাহকরা আরো জানান-আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকার নির্ধারিত ফি (ব্যাংক চালান) জমা দিয়ে চালান পত্র দেওয়ার পরও অফিসের কর্মকর্তারা নানা ধরনের ভুল চিহ্নিত ও তা সংশোধন করে অন্যদিন জমা দেয়ার কথা বলেন। তবে ঘুষ দিলেই পেছনের দরজা দিয়ে রিসিভ করা হয় আবেদন ফরম।

পাসপোর্টের আবেদন ফরমের পিছনে সত্যায়িত করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিবরণ উল্লেখ থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্যর সত্যায়ন লাগবে বলে আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অফিস থেকে বেরিয়ে এলেই আবেদনকারীদের ঘিরে ধরছে দালাল চক্রের সাত-আট সদস্য।
 
অভিযোগ রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মানিক চন্দ্র দেবনাথ, অফিস সহকারী মো: হাসান আলি ও পিয়ন রফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। দালালরা অফিসের বাইরে দাড়িয়ে থাকে, সংকেত পেলেই আবেদনকারীকে তারা ঘিরে ধরে। মূলত উপ-পরিচালক মানিক চন্দ্র দেবনাথের নির্দেশেই পাসপোর্টের আবেদনপত্রের জন্ম সনদ, বয়স বিভ্রান্তি, সত্যায়নে ভুল নির্ণয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অত্র অফিসে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা পাসপোর্টকারী সহযোগিদের ভিতরে ঢুকতে না দিলেও অনায়াসে যাতায়াত করছে দালালরা। দৈনিক কতটি পাসর্পোটের আবেদন ফরম জমা পড়ে বা মাসিক গড় হিসাব জানতে চাইলে অস্বীকৃত জানান উপ-পরিচালক। তবে একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে

প্রতিমাসে প্রায় ২ হাজার ৮শত থেকে  ৩ হাজার পাসপোর্ট আবেদন জমা পড়ে। প্রতি আবেদনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে বাধ্য করেন আবেদনকারিদের। সবমিলিয়ে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা অবৈধ পথে হাতিয়ে নিচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মানিক চন্দ্র দেবনাথ।

এবিষয়ে উপ-পরিচালক মানিক চন্দ্র দেবনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর না দিয়েই প্রতিবেদককে তথ্যের জন্য লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন।

সর্বশেষ খবর