30 March 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ল্যাপটপ চুরির হিড়িক

Published:  27 December 2016
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ল্যাপটপ চুরির হিড়িক

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা। কক্ষের তালা খুলে চুরির হিড়িক পড়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই কায়দায় সবগুলো চুরির ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটা কোন সক্রিয় সিন্ডিকেটের কাজ।

হল সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে মাদার বখ্শ, শহীদ জিয়াউর রহমান ও শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল থেকে ৯টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাদার বখ্শ হল থেকেই পাঁচটি ল্যাপটপ ও দামি জিনিস-পত্র চুরি হয়েছে।

মাদার বখ্শ হলের ২২৯ নম্বর কক্ষে থাকেন মো. জাকারিয়া ও অর্ণব চক্রবর্তী। দ্ইুজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে জাকারিয়া মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গত পরশু তাদের কক্ষের তালা খুলে চুরি হয়েছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও ঘড়ি। জানতে চাইলে জাকারিয়া বলেন, বিকেলে আমরা দুজন রুম থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যায় ফিরে দেখি রুমের তালা খোলা। ভেতরে গিয়ে দেখি টেবিলের উপর মাইক্রোফোন সেটটি নেই। ড্রয়ার থেকে চাবি বের করে অর্ণবের লকার খুলে ল্যাপটপ নিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্ণব বলেন, হলের ভেতর কক্ষ তালা মেরে রেখেও যদি নিরাপত্তা না থকে তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? আমার ৭২ হাজার টাকার ল্যাপটপ গেছে। তার থেকে খারাপ লাগছে দীর্ঘদিনের জোগাড় করা ডকুমেন্ট, থিসিস পেপার রয়েছে ল্যাপটপে। ভাবতেই পারছি না এগুলো আর পাবো না।'

মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, 'গত এক মাসে আমাদের হল থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। একই ভাবে চুরির ঘটনাগুলো ঘটায় মনে হচ্ছে কোন সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে। চুরির ঘটনা ঠেকাতে হল প্রাধ্যক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে। হলে সিসি ক্যামেরা লাগালে ও হলে অবস্থানরত বহিরাগত শিক্ষার্থীদের বের করতে পারলে সমস্যা সমাধান হতে পারে।'

সোহ্রাওয়ার্দী হলের ভুক্তভুগি শিক্ষার্থী রবিন বলেন, কক্ষের তালা খুলে আমার ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাবো। জিয়াউর রহমান হলের ৩৫৭ নম্বর কক্ষে থাকেন মার্কেটিং চতুর্থ বর্ষের জুবায়ের হোসেন। এক সপ্তাহ আগে তার কক্ষের তালা খুলে ল্যাপটপ সহ প্রায় ৫০হাজার টাকার জিনিস-পত্র চুরি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'সেদিন সন্ধ্যায় তালা মেরে ক্যাম্পাসে যায়। রাত ১০টার দিকে কক্ষে ফিরে দেখি তালা খুলে সব তছনছ। ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, বই, ব্যাগ, ঘড়ি কিচ্ছু নেই। একই ভাবে হলের আরো দুজনের ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষকে জানালে উল্টো রাগ দেখিয়ে বলেছে, এতো রাতে হলের বাইরে থাকার কী দরকার? বাইরে যাওয়ার সময় ল্যাপটপ সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারো না।'

কথা হয় মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক তাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, কক্ষের তালা খুলে চুরি হচ্ছে, বিষয়টিতে আমরাও আতঙ্কিত। ভুক্তভুগি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভা আছে, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেকোন একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করবো।



সর্বশেষ খবর