21 January 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com

নদীতে ট্রেন পড়ে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা, নিহত একাধিক

Published:  9 December 2016
নদীতে ট্রেন পড়ে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা, নিহত একাধিক

রাজধানী এক্সপ্রেসকে পাস করাতে ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসকে লুপ লাইনে দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। তা না মেনেই ট্রেন নিয়ে এগিয়ে যান চালক। কিছু দুর গিয়েই শেষ হয়ে যায় লাইন। তখনই সোজা হাড়িভাঙা নদীতে গিয়ে পড়ে ট্রেনের ইঞ্জিন। লাইন থেকে ছিটকে যায় পরের দু'টি কামরাও।

মঙ্গলবার রাতে আলিপুরদুয়ারের শামুকতলায় এই ঘটনার পর প্রাথমিক ভাবে একে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি রেল। জানানো হয়েছিল দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন একজন। পরে জানা যায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই যাত্রীর। আহত ২০। এরপরেই তড়িঘড়ি তদন্তে নেমে চালক ও গার্ডের গাফিলতিতেই এর জন্য দায়ী করেছে রেল।

দুর্ঘটনার জেরে ওই ট্রেনের চালক, সহকারি চালক ও গার্ডকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক প্রণবজ্যোতি শর্মা বলেন, ''রেল কর্মীদের গাফিলতিতেই দুর্ঘটনা। তাই চালক, সহকারি চালক ও গার্ডকে সাসপেন্ড করা হয়েছে''। রেল কর্তারা জানান, শামুকতলা জংশন স্টেশনে দু'দিক থেকে দুটি লাইন এসেছে। একটি আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে। অন্যটি নিউ আলিপুরদুয়ার থেকে। আলিপুরদুয়ার থেকে অসমের দিকে যাচ্ছিল আপ ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস। একটু পরেই পাশের লাইন দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল আপ রাজধানী এক্সপ্রেসের। রাজধানী এক্সপ্রেসকে পথ করে দিতে ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস কে ৪ নম্বর প্লাটফর্মের ডেথ লাইন এন্ডে দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও কারণে চালক সিগন্যাল বুঝতে না পারায় ট্রেন থামাননি। কিছুদূর এগিয়ে লাইন শেষ হয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি নদীতে গিয়ে পড়ে।

রেলের তদন্তকারী অফিসারদের কয়েক জন জানান, যে হেতু ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসের গতি ঘণ্টায় ৩০-৩৫ কিলোমিটারের বেশি ছিল না সে জন্য ক্ষতির বহর কম। না হলে বড় মাপের বিপর্যয় ঘটতে পারত।

ওই ট্রেনের যাত্রী ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল আহত হয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। তিনি বলেন, ''আচমকা ভুমিকম্পের মত ট্রেনটি দুলতে থাকে। সঙ্গে ঘড়ঘড় বিকট আওয়াজ। ট্রেনটি কোনও জায়গায় ধাক্কা মারে। নিভে যায় ট্রেনের আলো। যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।''

বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত কামরা ও ইঞ্জিন ক্রেন দিয়ে তোলা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে অসম নিউ আলিপুরদুয়ার লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বেশির ভাগ ট্রেন চার পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলে। কিছু ট্রেনকে নিউ কোচবিহার দিয়ে ঘোরানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কামরাগুলি রেলের অন্দরে প্রশ্ন তুলেছে। রেলকর্তাদের একাংশের মতে, এখন কামরা অনেক পাকাপোক্ত, অ্যান্টি টেলিস্কোপিক যাতে একটি কামরা আর একটির মধ্যে ঢুকে না যায়। কামরাগুলি দুমড়ে যাওয়ারও কথা নয়। কিন্তু কানপুর ও আলিপুরদুয়ার দুটি দুর্ঘটনাতেই কামরাগুলি যে ভাবে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে তাতে তাঁদের একাংশ বলছেন, পরিকাঠামো থেকে রক্ষণাবেক্ষণ, সব কাজই এখন হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। সঠিক ভাবে দেখভাল করা হচ্ছে না। ফলে যা ঘটার তাই ঘটছে।



সর্বশেষ খবর