28 April 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


৬০ বছর বয়সেও তিনি পড়েন ৩য় শ্রেণীতে

Published:  
৬০ বছর বয়সেও তিনি পড়েন ৩য় শ্রেণীতে

বার্তা ডেস্কঃ জীবনে শিক্ষার প্রয়োজন কি, তা বুঝতে পেরেই স্কুলে ভর্তি হন ৬০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ। বর্তমানে তিনি ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অন্যদিকে তার বড় নাতনি এইচএসসিতে পড়ছেন। বৃদ্ধ বয়সে এসেও ছোট শিশুদের সাথে পড়ালেখা করে তিনি নিজেকে এখন একজন শিশুই ভাবছেন।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার যোশহর শাহপাড়া গ্রামের এই বৃদ্ধ মানুষটি শিক্ষার অভাবে মানুষের কাছে ঠকেছেন। আর তা বুঝতে পেরেই ৬০ বছর বয়সে এসে যশোহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। নিয়মিত ক্লাসও করছেন। ক্লাস ওয়ান থেকে এখন তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছেন।

ছোট সহপাঠীদের সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে ক্লাস করছেন। প্রথম প্রথম ক্লাসের শিশু শিক্ষার্থীরা বিষয়টি অন্যভাবে নিলেও এখন বেশ মানিয়ে নিয়েছে। বরং আব্দুর রশিদকে ক্লাসে পেয়ে তারা বেশ আনন্দিত। তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের কোনো সমস্যা হয় না বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠী মোখলেছুর রহমান।

আব্দুর রশিদ জানান, ১৫ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়। সেসময় এলাকার এক ব্যক্তির কাছে তিনি তার ৪০ শতাংশ জমি বন্ধক রেখে টাকা নেন। এক বছর পর টাকা পরিশোধ করে জমি নিতে গেলে ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, তুমি তো আমাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছো, এখন আমি জমি ফেরত দেব কি করে।

একথা শুনে আব্দুর রশিদ চরম মর্মাহত হন। সেদিনই তিনি বুজতে পারেন জীবনে বেঁচে থাকতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন। এরপরই তিনি দুই বছর আগে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হন। তিনি বলেন, অন্ধ ছিলাম; আলো দেখতে এসেছি।  

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র রায় জানান, প্রথমে সে ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করলেও এলাকাবাসীর অনুরোধে তাকে স্কুলে ভর্তি করান।

বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আরজুমান বানু জানান, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আব্দুর রশিদের ঘটনা অন্য নিরক্ষর মানুষের কাছে অনুকরণীয় হবে। অন্যরা উৎসাহিত হবে, সমাজ শিক্ষিত হবে।

আব্দুর রশিদের এক মেয়ে দুই নাতনি ও এক নাতি আছে। বড় নাতনি এইচএসসিতে পড়ালেখা করছে।

স্কুলে ক্লাস করার পাশাপাশি আব্দুর রশিদ পার্শ্ববর্তী জংলীপীড় বাজারে একটি কোচিং সেন্টারে নিয়মিত কোচিং ক্লাস করেন। আব্দুর রশিদের স্বপ্ন এখন একটাই, তাকে শিক্ষিত হতে হবে। ভবিষ্যতে তাকে যেন কেউ আর ঠকাতে না পারে।