28 February 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


মিষ্টি কুমড়োর অনেক স্বাস্থ্যগুণ

Published:  1 November 2016
মিষ্টি কুমড়োর অনেক স্বাস্থ্যগুণ

কুমড়ো অনেকেরই খুব প্রিয় সবজি। ভিটামিন-এ তে ভরপুর সবজিটি মানবদেহের জন্যও উপকারী। কুমড়ো দিয়ে ভাজি থেকে শুরু করে আচার, নিরামিষ, মাংস রান্না সব কিছুই করা হয়ে থাকে। প্রত্যেকের জানা যে, সবজি হিসেবে কুমড়ো দেহের নানারকমের পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে।

কুমড়োতে আছে ভিটামিন-এ, বি-কমপ্লেক্স, সি, ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফ্লেভনয়েড পলি-ফেনলিক, অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট উপাদান সমূহ যেমন লিউটিন, জ্যানথিন এবং আরও অনেক উপাদান। কুমড়োতে ক্যালোরিও বেশ কম থাকে।

কিন্তু অনেকের জানা নাও থাকতে পারে যে, এসব ছাড়াও কুমড়োর এমন কিছু গুণাগুণ আছে যা অবাক করার মতো। জেনে নিন কুমড়োর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

চোখের স্বাস্থ্য উন্নতি করে: কুমড়োর ভিটামিন-এ উপাদান চোখের জন্য খুবই ভালো। বিশেষ করে যারা কম বা অস্পষ্ট আলোর মধ্যে থাকে, তাদের কুমড়োর ভিটামিন-এ চোখকে কর্নিয়া থেকে রক্ষা করে থাকে।

ত্বক গঠনে সাহায্য: কুমড়ো মানবদেহের সুস্থ করে থাকে ও দেহে টিস্যু তৈরি করতে সহায়তা করে থাকে। কুমড়োতে আছে এমন একটি উপাদান যার নাম ক্যারটিনয়েড এবং এই উপাদানটি চোখে ছানি পড়া ও যেকোন বয়সে চোখের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে থাকে। তাই দেরি না করে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কুমড়ো রাখাটা খুব দরকার।


রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: কুমড়ো হল বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের ভাণ্ডার। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-এ, সি, ই, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও অনেক উপাদান। বিশেষ করে ভিটামিন এ মানদেহের টিস্যুর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যা টিস্যুকে রক্ষা করে থাকে। কুমড়োর বিশেষ উপাদান বিটা-ক্যারোটিন মানবদেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে: কুমড়োতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম। কিন্তু এতে ফাইবার ও পটাশিয়াম আছে প্রচুর পরিমাণে। কুমড়োর ফাইবার উপাদান দেহের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। পটাশিয়াম দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় জল ও লবণ বের করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই চাইলে প্রতিদিন কুমড়ো জুস করে খাওয়া যেতে পারে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

দেহের জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করে: কুমড়োর ক্যারটিনয়েডের জন্য রং উজ্জ্বল কমলা হয়ে থাকে এবং এটি দেহের জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: এই সবজির বিটা-ক্যারোটিন উপাদান মানবদেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। আলফা-ক্যারোটিন উপাদান দেহে টিউমার হওয়া থেকে রক্ষা করে। কুমড়োর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন-ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আজঝেইমার রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

হজমশক্তি বাড়ায়: পুষ্টি ও ফাইবারে ভরপুর কুমড়ো খেলে দেহের হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। কুমড়ো দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ডায়রিয়া সমস্যায় দূর করতে সাহায্য করে এবং কাঁচা কুমড়োর রস মানবদেহের অ্যাসিডিটি সমস্যা রোধ করে।সবসময় সুস্থ থাকতে চাইলে এক গ্লাস কুমড়োর জুসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ৩ বেলা খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু, এই জুস যেকোন ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খেতে হবে।

দেহের ত্বক সুরক্ষা করবে ও বয়স কম দেখাবে: কুমড়োর আসল উপাদান ভিটামিন-এ ও বিটা ক্যারোটিন মানবদেহের ত্বক খুব ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং দেখতে কম বয়স্ক লাগে। ভিটামিন-এ ত্বককে সুরক্ষা করে ও বিটা-ক্যারোটিন, সূর্যের তাপে ত্বকের যে সমস্যা হয়ে থাকে তা রোধ করে।ভিটামিন-বি ও সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ও স্বাস্থ্যবান চামড়া তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি৫ ত্বকের যেকোন দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম করার পর দেহে কুমড়োর উপকারিতা: ব্যায়াম করার পর খাদ্য হিসেবে কুমড়ো খাওয়া যেতে পারে। তারসঙ্গে মিষ্টি আলুও খাওয়া যেতে পারে। এই খাবার মানবদেহে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট এর যোগান দিয়ে থাকে।কুমড়ো মানবদেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে তো রাখেই, পাশাপাশি দেহের সুস্থ পেশি তৈরিতেও সাহায্য করে। যারা সাধারণত অ্যাথলেটিক ট্রেনিং নিয়ে থাকেন, তাদের জন্য কুমড়ো বেশি করে খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি।

গর্ভবতী নারীর জন্য কুমড়ো: যে কোন নারীর গর্ভকালে কুমড়ো খাওয়া উচিত। কারণ এটি দেহে অনেক বেশি শক্তি যোগায় ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য কুমড়ো অনেক উপকারী খাদ্য। এটি পাশাপাশি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও কুমড়োর আয়রন বাচ্চাকে অক্সিজেন দিতে সাহায্য করে ও মায়ের রক্তশূন্যতা রোধ করে।

দেহের উর্বরতা বৃদ্ধি: কুমড়োর এর বীজে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। যা মানবদেহের উর্বরতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কুমড়োর ভিটামিন-ই উপাদান নারী ও পুরুষ উভয়ের দেহের উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। মানবদেহের কোষকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে রক্ষা করে।এই সবজি পুরুষদের সুস্থ শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করে ও নারীদের জরায়ুজনিত কোন সমস্যা থাকলে তা রোধ করতে সাহায্য করে থাকে। কুমড়োর বীজে আরও আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা দেহের উর্বরতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কুমড়ো প্রজনন অঙ্গে রক্ত প্রবাহ করে, হরমোন নিয়ন্ত্রণকরে ও মানসিক চাপ দূর করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে দেয়: কুমড়োতে আছে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম উপাদান।যা মানবশরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ভিটামিন-সি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে। তাছাড়া কুমড়োর বিভিন্ন উপাদান দেহের কিডনি, লিভার, হার্টকে সুস্থ রাখে। কুমড়োর ফাইবার দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে দেহকে স্ট্রোক করার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

সর্বশেষ খবর