25 June 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


৮৫ বছর পর ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়ায় আজান

Published:  
৮৫ বছর পর ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়ায় আজান

বার্তা ডেস্কঃ তুরস্ক সরকার ৮৫ বছর পর বিখ্যাত মসজিদ আয়া সোফিয়ায় আজান ও নামাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। আয়া সোফিয়ায় ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আয়া সোফিয়ার চার মিনারে এখন আজান ধ্বনিত হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর মুসলিম বিশ্ব আনন্দিত। তবে পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের শহর ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমদ জামে মসজিদের কাছে ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া অবস্থিত। এই ইমারতটি প্রথমে ছিল গ্রিকদের মন্দির। তারপর বিখ্যাত খ্রিষ্টান রাজা কনস্টান্টিন নির্মাণ করার পর বাইজান্টাইন খ্রিষ্টান বাদশাহ প্রথম জাস্টনিন ৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার নির্মাণ করেন। পাঁচ বছর একটানা এর নির্মাণকাজ চলে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর ৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে একে চার্চের মর্যাদা দিয়ে জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। ৯১৬ বছর ধরে আয়া সোফিয়া ক্যাথলিক চার্চ ছিল। এরপর মুসলমানদের বিজয়ের পর ৪৮১ বছর আয়া সোফিয়া ছিল মসজিদ।

জানা যায়, সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর প্রথম একে মসজিদ ঘোষণা করেন এবং এর ওপর একটি উঁচু মিনার নির্মাণ করেন। সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের শাসনকালে এর ওপর আরেকটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেন। এখন আয়া সোফিয়ায় চারটি মিনার।

৪৮১ বছর মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়েছেন, আজান দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৩৪ সালে কামাল আতাতুর্ক আয়া সোফিয়ায় আজান ও নামাজ নিষিদ্ধ করে এটাকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করেন। ১৯৯১ সালে আয়া সোফিয়ার পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং মসজিদটির দরজা আয়া সোফিয়ার দিকে খুলে দেয়া হয়। মানুষ ওখানে নামাজ পড়তে থাকে।

অন্য দিকে রজব তাইয়েব এরদোগান মতায় আসার পর তিনিই পুরনো মসজিদ আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের দাবিকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২০১৪ সালে আনাতোলিয়ান ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পুনঃরূপান্তরের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এর স্লোগান ছিল 'জায়নামাজ নিয়ে আয়া সুফিয়ায় চলো।' এই আন্দোলনের সময় আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের দাবিতে দেড় কোটি মানুষ স্বার করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে আয়া সোফিয়ার ব্যাপারে সরকার চিন্তাভাবনা করবে।

এরদোগানের এবারের সরকার আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারল।
আয়া সুফিয়া পৃথিবীতে স্থাপত্যশিল্পের এক বিস্ময়। এখানে রোম ও তুর্কি স্থাপত্যশিল্পীরা নিজ নিজ সময়ে কীর্তির স্বার রেখে পৃথিবীকে চমকিত করেছেন। আজও প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক স্থাপত্যশিল্পের এই বিস্ময় দেখতে আসে।

সূত্র : রয়টার্স ও ডেইলি হুররিয়াত