28 February 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


রুয়েট ভর্তিতে প্রতারণা

Published:  8 October 2016
রুয়েট ভর্তিতে প্রতারণা

নিউজ ডেস্কঃ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভর্তির শর্ত লংঘনের অভিযোগ উঠেছে। চলতি ২০১৬-১৭ সেশনে বিজ্ঞপ্তির শর্ত পরিবর্তন করে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরমের মূল্য বাবদ ৮০০ টাকা করে আগেই নেয়া হয়েছে। বঞ্চিত একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা ঠিক করে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ফলে হাজার হাজার আগ্রহী শিক্ষার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন কেন নোটিশ ছাড়াই ভর্তি যোগ্যতা পুনঃনির্ধারণ করে তাদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া থেকে বঞ্চিত করছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আদালতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।  

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রুয়েট কর্তৃপক্ষ ২০১৬-১৭ সেশনের স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এতে ভর্তিচ্ছুদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় গণিত, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রাক্কলিত স্কোর ১৮ দশমিক ৫। এতে এই যোগ্যতার প্রায় ১৩ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জমা দেন। কিন্তু গত ৫ অক্টোবর রুয়েটের ভর্তি কমিটির দেয়া নোটিশে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে গণিত, রসায়ন, পদার্থ ও ইংরেজিতে যাদের মোট জিপিএ স্কোর ২০ পয়েন্ট রয়েছে, তাদের ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

নাহিদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী যুগান্তরকে বলেন, রুয়েটের এভাবে শর্ত পরিবর্তন করাটা অনৈতিক। তারা এটা কোনোভাবেই করতে পারে না। এটাকে স্পষ্টতঃ বৈষম্য ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন নওগাঁর বদলগাছির অভিভাবক বেলাল হোসেন। অন্যদিকে রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, রুয়েটের ১২টি বিভাগে চলতি সেশনে আসন সংখ্যা ৮১৫টি। এই সংখ্যার আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১৩ হাজার ১২৯টি। প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে নেয়া হয়েছে ৮০০ টাকা করে। এতে মোট আয় হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩ হাজার ২০০ টাকা। 

এর মধ্যে বাদ পড়া ৫ হাজার ১০৯ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ৮০ হাজার ২০০ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই টাকা আবেদনকারীদের ফেরত দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন রুয়েটের ভর্তি কমিটির আহবায়ক ড. এম আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, আমরা ধারণা করিনি এতো বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়বে। এবারে জিপিএ-৫ অনেক বেশি। সে কারণে আমরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা বাড়িয়ে ২০ পয়েন্ট নির্ধারণ করেছি। তাহলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কেন ১৮ দশমিক ৫ পয়েন্টের শর্ত দেয়া হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া মাত্র ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। তারপরও আমরা আরও ২ হাজার বাড়িয়ে ৮ হাজার ২০ করেছি। পুরো ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সক্ষমতা রুয়েটের নেই। যুগান্তর।

সর্বশেষ খবর