26 February 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সাবেক এমপি হারুন ও পাপিয়ার প্রেম, বিয়ে-সহ না জানা কিছু কথা

Published:  9 August 2016
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সাবেক এমপি হারুন ও পাপিয়ার  প্রেম, বিয়ে-সহ না জানা কিছু কথা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সবেমাত্র ভর্তি হয়েছেন পাপিয়া। একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় আড্ডা দিচ্ছিলেন সহপাঠীদের সঙ্গে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি হারুণ। তখন এক সহপাঠী সুদর্শন ছাত্রনেতা হারুণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন পাপিয়াকে। প্রথম দিন নাম-পরিচয় নিয়েই কথা হলো। এরপর প্রায়ই একসঙ্গে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। দুজনই একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই আড্ডা দিতেন একসঙ্গে। পছন্দ করতেন একজন আরেকজনকে। কিন্তু ভালো লাগার বিষয়টি কেউ কাউকে বলেননি। অন্য দশজন প্রেমিক-প্রেমিকার মতো ডেটিং করেননি। তাদের মধ্যে শুধুই ছিল রাজনৈতিক সম্পর্ক। কথা হতো দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে। ১৯৯৪ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনও শেষের পথে। তখন ছাত্রদলের নেতা-নেত্রীদের (আমান-সাবেরা, খোকন-শিরিন, ইলিয়াস-লুনা) বিয়ের হিড়িক পড়েছিল। ওই সময় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দলের একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেন হারুণ-পাপিয়া। ওই অনুষ্ঠানে তাদের দেখেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সময় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হককে তাদের বিয়ে দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে পাপিয়ার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান আমিনুল হক। হারুণকে বিয়ে করবে কিনা জানতে চান। রাজনৈতিক নেতা বিয়ে না করে চাকরিজীবী ছেলে বিয়ে করার কথা জানান পাপিয়া। তবে কিছুদিন পর পাপিয়া রাজধানীর মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন। বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় যোগাযোগ করা হয় পাপিয়ার পরিবারের সঙ্গে। এরপর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে ঠিক হয়। '৯৪ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় দুই ছাত্রনেতা-নেত্রী। এরপর ছাত্রত্ব শেষ করে চাঁপাই নবাবগঞ্জেই শুরু করেন সংসার জীবন।

তিনবারের সাবেক এমপি হারুণ-অর রশিদের জন্ম ১৯৬২ সালে জানুয়ারিতে চাঁপাই নবাবগঞ্জে সদর উপজেলার চকআলমপুর গ্রামে। বেড়ে উঠেন  সেখানেই। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে চলে আসেন রাজশাহীতে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন শিরোইল উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপিরিমেন্টাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭৯ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী ডিগ্রি কলেজে। কলেজ পড়াকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কলেজের ছাত্র সংসদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। ১৯৮১ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে। এর দুদিন পরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আঁততায়ীর গুলিতে মারা যান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। ওই সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পরপর তিনবার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। রাজপথে মিছিল-মিটিং সভা-সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। ’৯২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় রিজভী-হারুণ পরিষদে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। ছাত্রজীবন শেষে ফিরে যান নিজ জন্মভূমিতে। '৯৬ সালে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর আসন থেকে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছর দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। এরপর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো এমপি হন। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৬ মাস কারাগারে ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও অল্প ভোটে হেরে যান। ২০০৯ সালের দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। এরপর সম্প্রতি দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। নির্বাচিত হন দলের যুগ্ম মহাসচিব। তবে রাজনীতি করেন ফুলটাইম। দলের কেন্দ্রীয় নেতা হলেও এলাকায় থাকেন বেশি। রাজনীতি করতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন একডজনের বেশি।

সর্বশেষ খবর