28 February 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে থাকছে বিএনপি

Published:  5 April 2016
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে থাকছে বিএনপি
ফাইল ফটো
চলমান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট। 'বিএনপি নির্বাচন থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারে'-এমন তুমুল আলোচনার মধ্যে গতকাল রাতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।
তার আগে গত রবিবার দলের সিনিয়র নেতা এবং গতকাল সোমবার রাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের মতামত ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন বেগম জিয়া।  গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শাসক দল আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি ও ভোট জালিয়াতির পরও ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপ পর্যন্ত থাকবে বিএনপি ও তার জোট। সামনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হবে না জেনেও বিরোধী জোট নির্বাচনী মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,নির্বাচনকে ৬ ভাগে ভাগ করায় সহিংসতা-অনিয়ম কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই ধাপ পার না হতেই ৪২ জন নিহত হয়েছে। এ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরো একবার সরকারের প্রতি জনগণ আস্থা হারিয়েছে। মহাসচিব বলেন,ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসন ভাগাভাগির তামাশায় পরিণত হয়েছে। মৌলিক অধিকার চরম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আনন্দের উৎসব বিষাদে রূপ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি চায় তাহলে এখনো সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। তবে নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব না বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হত্যার আয়োজনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,জনগণ নির্বাচনকে এখন ভয় পেতে শুরু করেছে। ইসি ইতোমধ্যে তাদের অযোগ্যতার সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কতটা অযোগ্য ও কতটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে তা দেখার জন্য নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্বাচন বর্জন না করলেও ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী প্রতিটি ধাপের পর নির্বাচন পর্যালোচনা করবে বিএনপি। ফখরুল বলেন,আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নির্বাচনে আমরা এখনো আছি। শেষ পর্যন্ত থাকবো। পরবর্তী ধাপগুলোর প্রতিটি পর্যালোচনা করব। বৈঠকসুত্রে জানাগেছে, জোটের নেতারা আপাতত ইউপি নির্বাচন বর্জন না করে নির্বাচনে থাকার পক্ষে মত দেন। বেগম জিয়া বলেন, বিএনপি মনে করে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিগত দিনের সবগুলো নির্বাচনে আবদুর রকিব কমিশন ও সরকারের আচরণ একমুখী ছিল। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, প্রার্থী হয়রানি, হত্যা, হুমকিসহ নানা কারণে সরকারের নির্বাচনি চেহারা নগ্নভাবে সারাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। এটি নির্বাচনে না গেলে হতো না। যেসব এলাকায় এখনো নির্বাচন হয়নি সেখানকার মানুষও সরাসরি দেখুক কিভাবে তারা প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতি এবং সহিংসতা করছে। আমরা প্রমাণ করেছি এই সরকারের এবং এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হবেনা। ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ইত্তেফাককে বলেন, বৈঠকে সবাই নির্বাচনে থেকে ইসি এবং সরকারের মুখোশ আরো উন্মেচন করার পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। এদিকে বেগম জিয়া সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে এই বিষয়টি প্রভাবশালী দেশগুলো এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় জনসংযোগ করতে সিনিয়র নেতাদের দ্রুত নিজ-নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। রবিবার রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বেগম জিয়া বলেন, আপনারা ঢাকায় বসে কমিটির জন্য খোঁজ নেন। এটা করা লাগবে না। কর্মীরা আপনাদের পায় না। আপনারা নিজ-নিজ এলাকায় যান, আমি খুঁজে বের করে আপনাদের পদ দেব। বিএনপির বেশিরভাগ নেতার মত হলো, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হতে না পারলেও দলীয় ও সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিএনপি পিছিয়ে পড়লেও স্থানীয় নির্বাচনের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ধানের শীষের মিছিল হয়েছে। নেতাকর্মীরা একে-অন্যের সঙ্গে কথা বলছেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে  সম্পৃক্তা-ব্যস্ততা বেড়েছে। নির্বাচন থেকে সরে আসলে সাংগঠনিক দিক দিয়ে এতটা লাভ হতো না বিএনপির।

এদিকে গতকাল সোমবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলের বৈঠক হয় প্রায় একঘন্টা। সভাপতিত্ব করেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)প্রধান শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সায়েদুল হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, সাম্যবাদী দলের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ। বৈঠকে জামায়াত, এলডিপি ও ন্যাপের নেতারা উপস্থিত ছিলেন না।

সর্বশেষ খবর