09 December 2016
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হুমকির মুখে 'প্রাচীন গৌড় নগরীর' ঐতিহাসিক স্থাপনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হুমকির মুখে 'প্রাচীন গৌড় নগরীর' ঐতিহাসিক স্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ গৌড়ের ইতিহাসসমৃদ্ধ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তবে কার্যকর পুনর্বাসন উদ্যোগের অভাব আর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদাসীনতায় হুমকির মুখে জেলার বহু ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হারিয়ে যাচ্ছে। কয়েক শ বছর আগের এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের বেশির ভাগই অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে। আবার অনেক নিদর্শনই এখনো প্রত্নবিভাগের তালিকার বাইরে। ছোট পরিসরে দু-একটি পুরাকীর্তি সংস্কার করা হলেও বেশির ভাগই পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। এমন অবস্থায় এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।  প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি, একে একে প্রতিটি নিদর্শনই সংস্কার করা হবে।

একসময়ের প্রাচীন জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন ছোট সোনা মসজিদ। মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন এটি। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টকোনাকৃতির মিনার এবং ওপরে ১২টি অর্ধগোলাকৃতির ও ৩টি চৌচালা আকৃতির ১৫টি গম্বুজ আছে।

স্থাপত্যকলা ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের বিচারে এ মসজিদ গৌড়ের রত্ন হিসেবে পরিচিত। মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে ওয়ালী মুহাম্মাদ কর্তৃক ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত হয়।
ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদের কিছু দূরেই অবস্থিত তোহাখানা। ১৬৫৫ সালে শাহ সুজা এটি নির্মাণ করেন। কথিত আছে, শীতকালীন তাপনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা-সংবলিত ইমারত হিসেবে এটি নির্মাণ করা হয়। এর পাশেই রয়েছে মোগল আমলের একটি মসজিদ ও হজরত শাহনেয়ামতুল্লাহর (র.) মাজার। কিন্তু নিরাপত্তা ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এসব স্থাপনা।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মকরপুরে প্রাচীন স্থাপত্যকলার আরেক নিদর্শন দারাসবাড়ি মসজিদ। মসজিদটি বাংলার মুসলিম শাসনামলের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকলার এক অপূর্ব নিদর্শন।

মসজিদের পূর্বে ছোট দিঘির পাশেই বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা। ধারণা করা হয়, ১৫ শতকে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর আমলে নির্মিত এই মাদ্রাসাটি বাংলাদেশর সবচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসার নিদর্শন। কিন্তু সুবৃহৎ এ মসজিদটি বর্তমানে ভগ্নদশা ও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে রয়েছে আরেক পুরাকৃতি নওদা বুরুজ। স্থানীয় ব্যক্তিরা একে বলে থাকেন ষাঢ় বুরুজ। খালি চোখে দেখলে মনে হবে একটি বিশাল ঢিবি। কিন্তু অনুসন্ধানী চোখে দেখলে মনে হবে তমশাচ্ছন্ন ইতিহাসের কালো মেঘে স্থানটি ঢাকা। এর সঠিক ইতিহাস উদ্ঘাটনে প্রয়োজন পরিকল্পিত খননকাজ। আজ অবধি সেটা করেনি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। উল্টো অবহেলা আর অযত্নে  দিনের পর দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে নিদর্শনটি। যার চারপাশে গড়ে উঠছে অবৈধ ঘরবাড়ি।

এ ছাড়া জেলার ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, কানসাটের পুরোনো জমিদার বাড়ি, দাদনচক মসজিদ, ঐতিহাসিক নীলকুঠি, ভোলাহাটের চামচিকা মন্দির, গিলাবাড়ি প্রাচীন শিবমন্দির, কাজী সাহেবের মসজিদ, রহনপুরের অতি প্রাচীন ঠাকুরবাড়ি, যা মাহান্তা বাড়ি নামে সমধিক পরিচিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষকেরা বলেন, এসব ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণে সরকার জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই তাঁদের কামনা।

এ বিভাগের আরও খবর