09 December 2016
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com
বিখ্যাতদের মজার ঘটনা

বিখ্যাতদের মজার ঘটনা

● নজরুল তখন ম্যাডন থিয়েটারের একজন গীতিকার এবং সুরকার। সে সময় বাজারে উর্দু কাওয়ালি গানের জয় জয়কার। ঠিক সে সময়ই শিল্পী আব্বাস উদ্দীন এলেন নজরুলের সাথে দেখা করতে। এসেই কবিকে বললেন, 'এই যে কাজীদা, দেখুন, পাশের রুমে পিয়ারু কাওয়াল উর্দু কাওয়ালি গানের রিহার্সাল দিচ্ছে। বাজারে সেসব গান খুব চলছে। আপনি বাংলায় এমন কিছু গান লিখে দেন না কেন?'

নজরুলের পাশে বসে থাকা কোম্পানির বাঙালি সাহেব সাথে সাথে বলে উঠলেন, 'না না, ওসব চলবে না বাজারে।'

এভাবে চলে গেল প্রায় এক বছর। কী ভেবে যেন এবার কর্তা রাজি হলেন। আব্বাসউদ্দীন ছুটে গিয়ে কবিকে বললেন, 'কাজীদা, কর্তা রাজী হয়েছেন।'

এ খবর শুনে নজরুল একটি আলাদা রুমে গিয়ে ঢুকলেন। আব্বাসকে বললেন, 'কিছু পান নিয়ে এসো।' তিনি পান নিয়ে এলেন ঠোঙা ভর্তি করে।

কবি নজরুল তখন বললেন, 'দরজাটা বন্ধ করে এবার চুপচাপ বসে থাক।'

পনেরো থেকে বিশ মিনিট। কবি মাথা তুলে তাকিয়ে বললেন, ‘এই যে এসো, নাও, ধরো।'

শিল্পী আব্বাস উদ্দীন অবাক। তখনকার ম্যাডন থিয়েটারের প্রধান নাট্যকার ও সংগীতকার ছিলেন কাশ্মীরের আগা হাশার। এই আগা হাশার রচিত একটি বিখ্যাত গজল গান:

'হাম জায়েঙ্গে ওয়াঁহা খুশ দিলে

দিওয়ানা যাহাহো।'

এই গজলের সুরেই এই ক মিনিটেই তার কাজীদা লিখে ফেলেছেন,

'ও মন রমযানের ঐ রোজার শেষে

এলো খুশির ঈদ।'

এভাবেই সৃষ্টি হলো নজরুলের বিখ্যাত এ গানটি।


● আধুনিক ক্রিকেটের জনক ডব্লিউ জি গ্রেস (উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস) ক্রিকেটের বেশ কিছু মজার আর স্মরণীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে গেছেন। তিনি পেশায় ছিলেন ডাক্তার। একবার বোল্ড হওয়ার পর আম্পায়ারের দিকে ফিরে গিয়ে বলেছিলেন, 'আপনি জানেন কিনা না জানেন, আসলে ঝোড়ো বাতাসেই স্ট্যাম্পের বেলটা পড়ে গেছে'। প্রত্যুত্তরে ওই আম্পায়ার মুচকি হেসে বলেছিলেন, 'আশা করি বাতাসটি আরেকটু ঝোড়ো গতি পেয়ে ডাক্তার সাহেবকে প্যাভিলিয়নে উড়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।'

আরেকবার গ্রেস গেছেন গ্রামে খেলতে। সেখানকার এক অখ্যাত বোলার একেবারে প্রথম বলে আউট করে দিল গ্রেসকে! কিন্তু তিনি হাল ছাড়বেন কেন? 'ট্রায়াল বল হিসেবে প্রথম বলটা ভালোই করেছ বাছা। বেশ তবে, এবার শুরু হোক আসল খেলা' বলে আবারও গিয়ে দাঁড়ালেন উইকেটে!

আউট হতে একেবারেই ইচ্ছে করত না গ্রেসের। আম্পায়াররাও বোধহয় তাঁর এই ইচ্ছেটাকে সম্মান করতেন। ১৮৯৮ সালের এক ম্যাচে গ্রেসের বিপক্ষে একাধিকবার এলবিডব্লিউর আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হলেন ফাস্ট বোলার চার্লস কোর্টনাইট। শেষে রেগেমেগে একেবারে দুটো স্ট্যাম্পই দিলেন উপড়ে। বোল্ড! এরপর গ্রেসের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন, 'ডক্, তুমি এবার নিশ্চয়ই মাঠ ছাড়বে? তখন আউট না হতে চাওয়ার হাস্যকর যুক্তি দিলেন গ্রেস,' দেখতেই পাচ্ছো একটা স্ট্যাম্প এখনো মাটিতে দাঁড়িয়েই আছে? লোকে গাঁটের পয়সা খরচ করে আমার ব্যাটিং দেখতে এসেছে, নিশ্চয়ই তোমার বোলিং দেখতে নয়'— বোলারের উদ্দেশ্যে এই ছিল তাঁর বাণী। বোলার বেচারা আর কি করবে, বল নিয়ে পরের বল করতে প্রস্তুত হওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায়ই ছিলো না।

এ বিভাগের আরও খবর