26 June 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com
রংপুর মেডিক্যালের হিমঘরে ৪ বছর ধরে নিপা রানী!

রংপুর মেডিক্যালের হিমঘরে ৪ বছর ধরে নিপা রানী!

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন (মুন্নি) ।। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের হিমঘরে প্রায় চার বছর থেকে অসহায় পড়ে আছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার অক্ষয় কুমারের কন্যা নিপা রানীর লাশ। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে মৃত্যুর পরও রক্ষা মিলছে না নিপা রানীর। তার বাবা হিন্দু কিন্তু শ্বশুর মুসলমান।

২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে একই গ্রামের মেম্বার জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির রাজুর সাথে পালিয়ে বিয়ে করে হিন্দু ঘরের মেয়ে নিপা রানী। বিয়ের পর নিপা রানীর পরিবার মেনে না নিয়ে বরং মামলা করে দুজনকেই জেল হাজতে পুরেন। পরবর্তীতে ছাড়া পেলেও স্বামী-স্ত্রী কলহে ৫৪ দিনের ব্যবধানে দুজনেই শান্তি অন্বেষণে সহজ সমাধান হিসেবে নিষ্ঠুর আত্মহত্যাকে আশ্রয় করেন।

মৃত্যু তাঁদের কতটুকু শান্তি কিংবা মুক্তি দিতে পেরেছে জানা নেই কিন্তু তাঁদের দুই পরিবারের বিবাদের কারণে এখনও মেয়েটির শেষ আশ্রয় হয়েছে হিমঘর। প্রথমে নিম্ন আদালত তারপর হাইকোর্ট করে করে এখনও পর্যন্ত কোন সমাধান মিলেনি নিপার লাশের বৈধ দাবীদার আসলে কে?

বেঁচে থাকার সময় কেবল একটু সুখ চেয়েছিল মেয়েটি। ধর্মীয় দ্বন্দ্বে জীবন দিয়ে সেই সুখের দাম পরিশোধ করার পরেও তৃষ্ণা মিটছে না দুই পরিবারের অভিভাবকদের। এই চার বছর তাঁরা না খেয়ে কেঁদে-কেটে কাটিয়েছেন এমন তো নয় কিন্তু নিপার জীবনের ঋণ, এতোটুকু সুখের ঋণ শোধ হচ্ছে না কোন মতেই।

মানুষ এতো জটিল কেন! রক্ত মাংসের হাসি খুশী রঙিন প্রজাপতির মত ডানা মেলা মেয়েটিই তো আর নেই, তবুও লাশকে ঘিরে ষড়যন্ত্র, বৃথাই জেদ মেটানো। মৃত্যুর পর সৎকার অর্থাৎ পুড়ানো আর মাটি দেওয়া নিয়ে এতো কলহ এতো জটিলতা! মেয়েটি কি অনাদিকাল লাশ ঘরেই নিথর পরে রইবে!

সব ধর্মেই মৃত্যুর পর দোয়া দরূদ সম্মান জানানোর জন্য শান্তভাবে সমস্ত আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে মৃত্যুর পর জায়গা নষ্ট না করার জন্য ইদানীং এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থে মৃত দেহটি মেশিনের মাঝে নির্দিষ্ট তাপ ও চাপে গলিয়ে তারপর মাটিতে ঢেলে দেওয়ার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।

আরব দেশে মৃতদেহটি কেবলই বালিতে ঢেকে দেওয়া কিন্তু কোনো চিহ্ন রাখা হারাম হিসেবে বিবেচিত হয়। মৃত্যুর পর নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া অর্থাৎ মাছের পেটে যাওয়াও হালাল বলে শুনেছি। সব পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া। মৃতদেহ পোড়ানো কিংবা রাসায়নিক পদার্থে গলানো ভীষণ বীভৎস আর নিষ্ঠুর বলে মনে হয় কিন্তু তাঁর চেয়েও বেশি নিষ্ঠুর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দিনের পর দিন ঠাণ্ডা বরফের মাঝে হিম ঘরে পরে থাকা। এই সহজ সত্যটা দুই বাবার একজনও কি এতোটুকু অনুধাবন করতে পারছেন না?

লেখক: সম্পাদক পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ

এ বিভাগের আরও খবর