30 March 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com
জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা 'নাটক' নাকি জাতীয় সমস্যা?

জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা 'নাটক' নাকি জাতীয় সমস্যা?

রাশেদা রওনক খান:  জঙ্গিবাদ আসলে কী? এই প্রশ্নটি কখনও সেভাবে মাথায় আসেনি, কেননা এর ভয়াবহতা এতো ভয়ঙ্কর যে, এর সংজ্ঞা খুঁজে দেখার চেয়ে জরুরি মনে হয়েছে জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে নিজে জানা এবং অন্যকে জানানো। কিন্তু এই ধরনের ভয়াবহ ও গুরুতর সমস্যা নিয়েও যে সস্তা রাজনীতি হতে পারে, তা এই দেশে না জন্মালে এই প্রজন্ম জানতে পারতো কিনা কে জানে।

জঙ্গিবাদ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পরস্পর বিরোধী ডিসকোর্স তৈরি, তার প্রচার, প্রসার এবং বাগড়ম্বরতা দেখে সত্যিই অবাক হচ্ছি এই প্রজন্মের আমরা। একেই বোধ হয় বলে ‘আগুন নিয়ে খেলা’। আমরা বাঙালি জাতি অবশ্য ‘আগুন নিয়ে খেলতেই পছন্দ করি’। এই আগুন নিয়ে খেলতে গিয়ে কার গায়ে গিয়ে আগুনের গোলা পড়লো, কে পুড়ে মারা গেলো এই আগুনে, আর কে বাঁচলো, এসব নিয়ে যেন মাথা ব্যাথা নেই আমাদের নেতাদের, কেবল নিজে নিরাপদ থাকলেই বাঁচলাম।  কেন বললাম? রাজনৈতিক নেতাদের দলাবাজি, প্রতিহিংসার ডিসকোর্স-পাল্টা ডিসকোর্স নিয়ে কথা বলার আগে নিজেদের কথাও একটু সহজ করে বলি।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে, আতিয়া ভবনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আর উৎসাহ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। দেশের যেকোনও সহিংস ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় আমাদের মতো সাধারণের এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় ঠেলে কাজ করতে হয়। এই হাস্যকর ঘটনা কেবল আমাদের দেশেই সম্ভব! বিশ্বজিৎকে মারা হয়েছে, আমরা তা 'নাটকে'র দৃশ্য ভেবে দেখছি এবং খবরে পরিবেশনের জন্য ভিডিও ফুটেজ নিচ্ছি! বদরুল কোপাচ্ছে খাদিজাকে আমরা তা 'নাটকে'র দৃশ্য ভেবে রেকর্ড করছি। রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশকে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত কিংবা অপরাধীকে ধরার চেয়ে বেশি বেগ পেতে হয় উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে। কিছুদিন আগে কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগেছিলো। সেখানে গিয়ে দেখলাম, আগুনের লেলিহান শিখায় যাদের ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে তারা চিৎকার করে কেউ কাঁদছে, কেউ কেউ শিশু ও বয়স্কদের সরিয়ে নিচ্ছে,  কেউ কেউ তাদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছে, কেউ কেউ পুড়ে যাওয়া ছাই হতে নিজের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান কোনও জিনিসের সন্ধানে ব্যস্ত, কেউ কেউ যা বাঁচাতে পেরেছে, তা নিরাপদ দুরুত্বে নিয়ে রাখতে দৌড়াচ্ছে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, হাজারো জনতা এই অসহায় মানুষগুলোর চোখে মুখে আতঙ্ক-শঙ্কা-সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ভয় আর অসহায়ত্বকে দেখছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, যেন কোনও নাটকের দৃশ্যপট চিত্রায়িত হচ্ছে এখানে। ফলে এতো ভিড়ের কারণে দমকল বাহিনীর গাড়ি ঢুকতে পারছে না, বিভিন্ন জায়গা হতে ত্রাণ নিয়ে আসা গাড়িগুলো আগাতে পারছে না। এমনিতেই কড়াইলে রাস্তা ঘাট খুব সরু, তার মাঝে রাতের বেলায় আগুন থামানোর জন্য দমকল বাহিনীর প্রচুর পানির ব্যবহারে রাস্তাঘাট কাঁদা পানিতে পরিণত হয়েছে। এর মাঝে যদি এই উৎসাহী হাজারো মানুষের ঢল নামে, তাহলে কিভাবে দমকল বাহিনী এবং ত্রাণ এর গাড়ি সেখানে যাবে? সেই নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই, আছে ‘নাটক’ এর দৃশ্য দেখার আগ্রহ আর উদ্দীপনা।

দিন কয়েক আগেই তো আমরা দেখলাম, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে এক পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকা কতটা জনশূন্য হয়ে পড়লো, নিরাপত্তা কর্মীরা কিভাবে এলাকাটি ঘিরে রেখেছিলো আলামত সংগ্রহের জন্য। তদন্তের স্বার্থেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মানুষজন ছাড়া কেউ সেই এলাকায় যায় না। সিএনএন- বিবিসির মতো চ্যানেলগুলো একটি দৃশ্যপটকেই সারাদিন ব্যাপী দেখায়, তাতে কি তাদের সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব কমে যায়? আমরা তো সবাই সিএনএন-বিবিসির আদলেই নামী-দামী চ্যানেল হতে চাই, তবে কেন তাদের মতো করে এক দৃশ্যপট বার বার দেখানোর চেয়ে প্রতিবার ভিন্ন কিছু দেখানোর জন্য অতি উৎসাহী হয়ে পড়ি? বিগ্ন ঘটাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের কাজে? ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনের মতো আমাদের দেশে ঘটনাটি ঘটলে কী হত? উৎসুক সাধারণকে ঠেলে সরাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হিমশিম খেতে হত, আলামত সংগ্রহ করা তো দূরে থাক, এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপদ করাটাও হত আরও একধরনের যুদ্ধ। 'আতিয়া ভবন' কিংবা 'হলি আর্টিজান' এর ঘটনায় জঙ্গি নিধন এবং আশেপাশের নিরীহ মানুষজনকে নিরাপদে আনার জন্য যে যুদ্ধ করতে হয়, তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরেকটি যুদ্ধ করতে হয়, তা হলো এই অতি উৎসাহী আমাদের নিয়ে। অতি উৎসাহী এই আমরা কবে বুঝবো যে, আমাদের অতি উৎসাহ আসলে জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরক্ষভাবে সহায়তা করছে? কবে বুঝবো, 'অপারেশন টুইলাইট' কোনও 'নাটকের' দৃশ্যপট নয়,  কিংবা 'সোয়াত' এর কার্যক্রম কোনও সিনেমার কাহিনি নয় যে, এটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্বচক্ষে কিংবা টিভি পর্দায় দেখতে কিংবা দেখাতে হবে?

অথচ জঙ্গিবাদের মতো এতো ভয়াবহ, জটিল এবং সমস্যাসংকুল একটা ঘটনাকে আমরা 'নাটক'এর দৃশ্যপট ভেবে কেউ কেউ অতি উৎসাহী চিত্তে দেখতে যাই, কেউ কেউ এটাকে নিজ টেলিভিশনের বাজার কাটতি বাড়াতে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া পরিকল্পনা, তাদের 'কমান্ডো স্টাইল' সহ আরও যা যা সম্ভব, তাই ভিজুয়ালি উপস্থাপন করতে চাই টেলিভিশনে, যেন নাটকে বাড়তি উত্তেজনাকর মুহূর্ত দৃশ্যায়ন তৈরির একটা অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছি। জঙ্গি নিধন এর চেয়ে আমাদের স্বার্থ হয়ে উঠছে বাজার কাটতি'র জন্য সংবাদ সরবরাহ! পুঁজিবাদ আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাচ্ছে? কী অমানবিক আর পুঁজিবাদী আমাদের মন! উত্তর আধুনিক এই সময়ে পুজিঁবাদেরই জয় জয়কার হওয়ার কথা, সন্দেহ নেই। কিন্তু  টেলিভিশন মালিকদের পুঁজিবাদী মন কিভাবে আমাদের সাংবাদিক মনকেও পুঁজিবাদী করে তুলছে, সেই প্রশ্ন আজ নিজেদেরকেই করতে হবে।

প্রসঙ্গে ফিরে আসি। কেন আমরা সমাজের ভয়াবহ ঘটনা সমূহকে 'নাটক' ভেবে দেখতে চাই? এই সংস্কৃতি আমাদের মাঝে কিভাবে বিরাজ করছে, কেন করছে?  কিভাবে বুঝবো আমরা সাধারণেরা জঙ্গিবাদের এই ভয়াবহতা যেখানে 'অসাধারণেরা' এই ভয়াবহ বিষয়টি নিয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করেন, পরস্পর বিরোধী হালকা বক্তব্য দেয়, পাল্টাপাল্টি ডিসকোর্স তৈরি করেন, বার বার এই ধরনের হালকা মনগড়া ডিসকোর্স বলতে বলতে তা সাধারণের বিশ্বাসে রূপান্তরিত করেন যে, ‘জঙ্গিবাদ সরকারের সাজানো নাটক’। তাহলে তো আমরা সাধারণেরা 'নাটক' দেখতে চাওয়াটা অপরাধ নয়।

আমাদের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি, আমাদের দলাবাজি, পরস্পর বিরোধী বক্তব্য কিংবা ডিসকোর্স তৈরি, প্রচার এবং প্রসার- এসবই যেন আমাদের অন্ধ আর বিবেকহীন বানিয়ে ফেলছে। অপ্রয়োজনীয় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিতে গিয়ে আমাদের 'অসাধারণ' রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের বিবেক এবং নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছেন কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার। যে যার দলের প্রধানকে খুশি করতে যে যার মতো পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে নিজেকে এই প্রজন্মের কাছে হেয় এবং গুরুত্বহীন করে তুলছেন কিনা, সেটাও ভেবে দেখা দরকার। সমাজে যখন একজন নেতার আর জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকে না, তখনি এই ধরনের আচরণ রাজনীতিতে প্রবেশ করে। হয়ে পড়ে ব্যক্তি কেন্দ্রিক, জনমুখী নয়। রাজনীতি হয়ে যায় ক্ষুদ্র স্বার্থের, সেবার নয়। এই রাজনীতি কোনও কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

কতটা বিবেক বর্জিত জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি আমাদের দেশে এই মুহূর্তে বিরাজ করছে যে, আমাদের নেতারা  জঙ্গিবাদের মতো ভয়াবহ বিষয়টি নিয়েও এক ধরনের সস্তা রাজনৈতিক ডিসকোর্স তৈরি করছেন? নাকি তারা নিজেরাই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত নন? তারা সহ আমাদের মধ্যে যে কেউ যে এই ধরনের ভয়াবহতার শিকার হতে পারেন, সেই সম্ভাবনা কি তারা উড়িয়ে দিতে পারেন?

জঙ্গি দমনে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যে মনে করছেন, কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালানোর পর জঙ্গিরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, এটা ভুল বলছেন? ধারণা করা হচ্ছে,  গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার পর নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে নব্য জেএমবির সদস্যরা, এটাও ভুল ধারণা? শোনা যাচ্ছে, নব্য জেএমবির কাছে ২০ হতে ৩০ জনের মতো প্রশিক্ষিত সদস্য আছে, যারা আত্মঘাতী হওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং যেকোনও জায়গায় যেকোনও সময় তারা আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে । এটাও কি তারা ভাবছেন না যে, আত্মঘাতী জঙ্গিরা সংখ্যায় খুব নগণ্য হলেও তারা যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে? তাদের কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালানোর পর  নতুন ভাবে তাদের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে, নব্য জেএমবির একটা অংশকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ধারণা করা যায়, যেহেতু গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায়  ৪০ এর মতো জঙ্গি নিহত হয়, যাদের মধ্যে তামিম চৌধুরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান, সারোয়ার জাহানের মতো নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ছিল, ফলে দলটি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাই শঙ্কা কিন্তু বেড়ে গেলো, কেননা অপেক্ষাকৃত নতুন ও কম বয়সীদের হাতে নেতৃত্ব চলে যাওয়ায় তাদের মধ্যে তরুণ বয়সের অস্থিরতা ও অপরিপক্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  তবে আইএসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনও জঙ্গি দেশে আসার সুযোগ পেলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক মাস পর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আঁটছিল নব্য জেএমবি এবং সেই লক্ষ্যেই দেশের মীরসরাই, কুমিল্লা, সিলেট, সাতক্ষীরা, সীতাকুণ্ড সহ বিভিন্ন জেলায় আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। এটাও শোনা যাচ্ছে যে,  মধ্যপ্রাচ্যফেরত দু-একজন এতে যুক্ত থাকতে পারে, আর তা যদি সত্য হয়,  আইএসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনও জঙ্গি দেশে আসার এবং এই ধরনের হামলার সুযোগ পায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।এরই মধ্যে সীতাকুণ্ডে একজন, ঢাকায় র‍্যাবের ব্যারাকে হামলায় একজন, বিমানবন্দর সড়কে গোলচত্বরে বিস্ফোরণে একজন এবং সর্বশেষ সিলেটের আতিয়া মহলে নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনসহ মোট ছয়জন আত্মঘাতী দলের সদস্য বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

সিলেটে নিহত মঈনুল ওরফে মুসা গুরুত্বপূর্ণ নেতা হলেও এই মুসাই দলের প্রধান নাকি অন্য কেউ, তা কিন্তু এখনও নিশ্চিত নয়। অতএব, তারা লক্ষ্যস্থলে আত্মঘাতী হামলা করতে প্রস্তুত হয়ে আছে, তাই এখন সাবধান থাকার প্রস্তুতি আমাদের নিতে হবে। অথচ তা না করে জনগণকে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে, এসব কার্যক্রম 'নাটক-সিনেমা' বলে বিভ্রান্ত করা কি 'নেতা সুলভ' আচরণ কিনা, তা তাদেরকেই ভেবে দেখতে হবে।

বরং জেএমবির নতুন কার্যক্রম, জঙ্গি তৎপরতা, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে শক্তিশালী হওয়ার ডাক শুনবে এমন প্রত্যাশা করে তরুণ প্রজন্ম। দেশের 'সিনিয়র'রা যখন এভাবে বিভ্রান্ত করে তারুণ্যকে, তখন কিছু বিভ্রান্ত তারুণ্যকে আর দোষ দেওয়া যাবে কোন মুখে? তাই তারুণ্যের পক্ষ হতে এইটুকু প্রত্যাশা করি যে, যেকোনও দলের রাজনৈতিক নেতারা  জঙ্গিবাদ এর বিরুদ্ধে গঠনমূলক বক্তব্য দেবেন। আমরা ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতিতে দেখেছি,  তিনি বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদ বিশেষ কোনও সরকার কিংবা দলের নয়, এটা একটি জাতীয় সমস্যা’।

আশা করি, এবার যারা যেভাবে জঙ্গিবাদকে 'নাটক' 'সিনেমা' বলে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন, তারা একত্রিত হবেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, যা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলবে, এবং যা দেখে আমরা তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে, অনুপ্রাণিত হবে এবং সকলে একসাথে সংঘবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করবে। আমাদের  রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকবে, সংকট থাকবে, দলাবাজি থাকবে, মতাদর্শগত বিরুদ্ধতা থাকবে, ক্ষমতার রাজনীতি থাকবে- কিন্তু কিছু বিষয়ে বিশেষ করে জাতির এই সংকটময় সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা যদি একত্রিত না হতে পারি, এক সুরে কথা না বলতে পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের বিপদ আমরা ডেকে আনবো।  আর সেই বিপদে কে পড়বেন আর কে পড়বেন না, তা কিন্তু বলা মুশকিল।

লেখক: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাট্রিবিউন।।

এ বিভাগের আরও খবর