29 May 2017
g+ tw Chapaibarta Faceook Page
Chapaibarta.com
'বউকে মেরে পুঁতে রেখেছি'

'বউকে মেরে পুঁতে রেখেছি'

বার্তা ডেস্কঃ ফোনে ভাড়াটে যুবকের মুখে 'কিচ্ছু ভালো লাগছে না' শুনে কারণ জানতে চেয়েছিলেন বাড়িওয়ালা। উত্তর পান, 'বউকে মেরে আপনার বাড়ির উঠোনে পুঁতে রেখেছি তো। তাই..'

ভাড়াটে হায়দার শেখের কথা শুনে আঁতকে উঠেছিলেন বাড়িওয়ালা তরুণ রায়। খুনের কথা বলেই থামেনি ৩৬ বছরের হায়দার। বলেছিল, 'এবার যা করা দরকার, করুন'। হায়দারের ফোন রেখেই পুলিশকে ফোন করেন তরুণ রায়।

গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিম বর্ধমানের পুরের বেনাচিতিতে তার ভাড়া বাড়ির উঠোনে মার্বেলে ঢাকা একটি অংশ খুঁড়ে হায়দরের স্ত্রী রেজিনা বেগম ওরফে রিনার (৩০) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হায়দারকে গ্রেপ্তার করে জেরা করছে পুলিশ। পুলিশ অনুমান করছে, অশান্তির জেরে বধূটিকে খুন করা হয়েছে।

বীরভূমের নানুরের পোশলার বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রি হায়দার স্ত্রী ও ছোট্ট দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কয়েক বছর ধরে ভাড়া থাকে বেনাচিতির উত্তরপল্লিতে তরুণ রায়ের বাড়িতে। তিনি দুর্গাপুরেই অন্য বাড়িতে থাকেন।

তরুণ রায়ের দাবি, বৃহস্পতিবার হায়দার জানায়, সে কলকাতায় রয়েছে। কথায় কথায় বলে রিনাকে সে খুন করেছে। পরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে ভাড়াবাড়িতে পুলিশ এসেছে কি না, তাও জানতে চায়।

পুলিশের কথামতো হায়দারকে দুর্গাপুরে ফিরতে বলেন তরুণ রায়। শুক্রবার সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে নামতেই গ্রেপ্তার হয় হায়দার। বেনাচিতির বাড়ির উঠোনে মার্বেল সরিয়ে ফুট দুয়েক খুঁড়তেই রেজিনার দেহ, রক্তমাখা বোরখা, লুঙ্গি ও একটি শাবল মেলে। দেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি নানুরের নিমড়া গ্রামে যান রেজিনা। গত রোববার তিনি একাই ফেরেন দুর্গাপুরে।

পুলিশের দাবি, গত মঙ্গলবার কীর্ণাহার ফাঁড়িতে স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করাতে গেলে ফাঁড়ি থেকে হায়দারকে দুর্গাপুরে ভালো করে খোঁজ নিয়ে ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে বুধবার রেজিনার খোঁজে তার বাপের বাড়ির লোকজন বেনাচিতিতে এলে তাদের হায়দার বলে, 'মঙ্গলবার ওকে দুর্গাপুর থেকে কীর্ণাহারের বাসে তুলে দিই। আর খোঁজ পাচ্ছি ন'।

সে দিনই রেজিনার বাড়ির লোকেরা দুর্গাপুরের প্রান্তিকা ফাঁড়িতে নিখোঁজ-ডায়েরি করেন এবং সে দিনই দুর্গাপুর ছাড়ে হায়দার।

পুলিশের দাবি, হায়দার বলেছে, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিজে রাজমিস্ত্রি বলে খুনের পরে স্ত্রীর দেহ মার্বেলের চাঁইয়ের নিচে লুকোতেও অসুবিধা হয়নি তার। পরে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তরুণ রায়কে সব বলে। তবে রেজিনার ভাই নুর মহম্মদ শেখের অভিযোগ, 'হায়দারের একাধিক অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে ফেলাতেই হয়তো বোনকে খুন করা হয়েছে।'

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অভিষেক মোদী বলেন, 'আমরা সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছি।'

এ বিভাগের আরও খবর