‘খারাপের প্রতি ঘৃণার মাঝে মানবতার মহান মানুষগুলো যেন না হরিয়ে যান’

জাহিদ হাসান মাহমুদ মিম্পার ফেইসবুক ওয়াল থেকে নেয়া। লিখাটা নিচে হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

‘খারাপের প্রতি ক্ষোভ আর ঘৃণার মাঝে মানবতার মহান মানুষগুলো যেন না হরিয়ে যায়’

শুরুটা যেমনঃ
আমাদের ফ্যামিলিতে সাংবাদিক, হাই লেভেলের সরকারি কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, পলিটিক্যাল লিডার, বিজনেসম্যান, সেনাবাহিনী সহ প্রায় সকল আইন-শৃংখলা বাহিনীতে কেউ না কেউ ছিলেন বা আছেন কিন্তু একটাও হাই প্রোফাইল পুলিশ নেই.. এইটা একটা বড় ঘাটতি..

ঘাটতি পূরণে যদি ছেলে সন্তানের বাপ হই তবে তাকে অবশ্যই পুলিশে পাঠাবো..

পর্ব একঃ
আসছে পুলিশ, শুনলেই ভয়ানক নিরাপত্তাহিনতায় ভোগেন ভারতী উপমহাদেশীয় সাধারন পাবলিক..

একজন পুলিশ কতটা নিষ্ঠুর আর নির্দয় হয়ে পারে তার স্বাক্ষি আমার ছোট ভাই.. ২০১৪ সালের দিকে তখন আমি ঢাকায় পেট্রবাংলায়.. আমার এলাকায় এক সকালে এক এসআই এর সাথে এক ভ্যান ফোর্স আসে.. তখন হঠাৎ একজনকে মারতে শুরু করলে ছোট ভাই বলে, ‘ভাই, তাকে মারছেন কেন?’

ব্যাস, এটাই ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ.. সাথেসাথেই যাকে প্রথমে মারছিল তাকে ছেড়ে দিয়ে আমার ভাইকে বেদম প্রহর শুরু করে, তাকে পিকআপে তুলে নিয়ে শিবগঞ্জ থানা পর্যন্ত প্রায় ৭ কি.মি রাস্তা পর্যন্ত শরীরে রুলার দিয়ে পেটায়.. এমনকি তার মাথা ও পিঠে এতটাই আঘাত করে যে চার বছর পরেও সে আজো মাথার যন্ত্রণা আর পিঠ ব্যাথায় ঠিকমত ঘুমাতেও পারে না একটা দিনও..

“ভাই, তাকে মারছেন কেন?” এমন প্রশ্ন করার পর যাকে মারা হচ্ছিলো তাকে ছেড়ে দিয়ে সাধরন এক প্রশ্নকারীর উপরেই ঝাঁপিয়ে পড়লো কয়েকজন বৈধ অস্ত্রধারী মানুষ যাদের দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা দেয়া,, তাহলে যাকে প্রথমে মারা হচ্ছিল তার অপরাধ কি ছিলো??

ধরে নিচ্ছি সেদিন আমার ভাই সরকারি বাহীনির কাজে প্রশ্ন তুলে মহা অপরাধ করেছিল.. তাই বলে একজন অপরাধিকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের গণতান্ত্রিক অধিকার না দিয়েই কিভাবে নির্দয়ের মত বেদম প্রহর করা যায়??

সেদিন আমি ঢাকায় অফিসে বসে অসহায়ের মত ফোনের অপরপ্রান্তে আমার বাবাকে (চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম) কাঁদতে শুনেছিলাম.. আমি এদিক-ওদিক ফোন করে ও শিবগঞ্জের কয়েকজন শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সাংবাদিক এবং দুই চাচাতো ভাই থানায় যাবার পর তাকে ছাড়ে তবে ক্ষত দিয়েই ছাড়ে সারাজীবনের মত..

তবুও, কোন কোন মানুষ আবার বলেন, ‘পুলিশ-সাংবাদিক’ ভাই ভাই, এক টেবিলেই ঘুষ খায়.. আফসোস তাদের জন্য যারা এমন কঠিন ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি কখনো না হয়ে এমনটা মত পোষন করেন..

কিন্তু পুলিশ নাম শুনলে ইউরোপ কান্ট্রিগুলোতে মানুষ আস্থা খুঁজে পান আর ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষেরা আত্মায় পান ধুকধুকানি..

পর্ব দুইঃ
তবুও,, এমন অনেক পুলিশ ছিলেন ও আজো আছেন যাদের নামেও আস্থা পান অসহায় নিপিড়িতরা..

তাঁদের মধ্যে নওগাঁর সাবেক এসপি ও বর্তমান রংপুর র‍্যাব প্রধান মোজাম্মেল হক, যার বদলীতে কেদেছিলেন নওগাঁর মানুষ,, কিছুদিন আগে নিউজে দেখলাম ময়মংসিংহের ডিবি ওসি আসিক আংকেলের বদলি ঠেকানোর জন্য ছাত্র-জনতা মানববন্ধন করেছেন,, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাবেক এসপি মিজানুর রহমানকে স্থানীয় জনতা ও মিডিয়া হাউসগুলো ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খেতাব দিয়েছিল,,, চট্রগ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম উজ্জ্বলকারী এক এএসপিকে (নামটা ঠিক মনে পড়ছে না) সৎ পুলিশের তাকমা দিয়েছেন সাধারন মানুষ,,,, আমার নানাও একজন পুলিশের লোক ছিলেন যাঁর সরলতার কথা আজো রংপুরের পীরগঞ্জের মানুষ স্বরণ করেন,,,,, টেরিরিজম ইউনিটের এক উর্দ্ধতন অফিসার এএসপি তৌহিদ ভাইয়ের ভদ্রাতা অবাক করার মত.. আজো বাংলাদেশে হাজারো খারাপের ভিতে শতশত সৎ ও জনদরদী পুলিশ অফিসার রয়েছেন বলেই আমরা রাত-বিরাত নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারি…

আরো এক পুলিশ সুপারের কথা না বললে কৃপনতা হবে, তিনি বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি টি. এম. মুজাহিদ.. আমার জ্ঞান হবার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে এতটা ভালো আইন শৃংখলা পরিস্থিতি আগে দেখিনি.. তাঁর প্রতি মানুষের আস্থাও হয়তো অন্যান্য অনেক এসপির কাছে ইর্ষার ব্যাপার.. কয়েকদিন আগে শুনলাম তিনিও চলে যাচ্ছেন শিগগির (বদলি).. একদিন উনাকে বলেছিলাম, আপনি যেদিন চলে যাবেন সেদিন হয়তো চাঁপাইনবাবগঞ্জের অসহায় মানুষগুলো একটি আস্থার স্থল হারাবে..

আরেকজনের কথা আর নতুন করে বলার কিছুই নেই, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন- এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলাম আংকেল..

শেষটা এমনঃ
ছোট ভাইয়ের প্রতি যখন এক পুলিশের অন্যায় নিষ্ঠুর অত্যাচারের কথা মনে হয় তখন ভাবি- আমি তো নিজেও এমন একজন পুলিশের নাতি যাকে রিটায়েডের প্রায় ৩০ বছর পরেও মানুষ স্বরণ করেন আর আমাদের প্রতিবেশী তো একজন এসপি নূরুল ইসলাম.. তখন কিছুটা হলেও খারাপ লাগাটা দূর হয়ে যায়..

খারাপের প্রতি ক্ষোভ আর ঘৃণার মাঝে মানবতার মহান মানুষগুলো যেন না হরিয়ে যান..

জাহিদ হাসান মাহমুদ মিম্পা..
সংবাদ কর্মীঃ চাঁপাই বার্তা..
ডিস্ট্রিক করস্পন্ডেন্টঃ বাংলাদেশের খবর ও Bangladesh News…।।

এই বিভাগের সর্বশেষ খবর