উন্নয়নের সুফল পেতে রাজশাহীতে লিটনকে মেয়র নির্বাচিত করুন- ডা. আনন্দ

  • Date: June 4, 2018
  • cat
  • | Post By: চাঁপাই বার্তা.কম (M)

ডা. সাইফ জামান আনন্দঃ ৩ নভেম্বর ১৯৭৫; কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বঙ্গবন্ধুর চারজন ঘনিষ্ঠ সহচরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা। জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে রাজশাহী তথা উত্তর-পশ্চিম জনপদের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান হেনার জীবন প্রদীপ নিভেয়ে দেয়া হয় যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতিও ছিলেন। সেই থেকে সুদীর্ঘকাল যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে রাজশাহী নগরী প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সফলতা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। মাঝে কিছু সময়ের জন্য জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম.কামারুজ্জামান হেনার উত্তরাধিকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এ.এইচ.এম.খায়রুজ্জামান লিটন ভাই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে অল্প সময়েরর মধ্যেই অবহেলিত এই নগরটিতে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে।

রাজশাহী শহরটির ইতিহাস খুব অল্প সময়ের নয়। বাংলাদেশের অনত্যম প্রাচীন ও ঐত্যিহবাহী শহর এটি। বিখ্যাত পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় শহর। রাজশাহী শহরের নিকটে প্রাচীন বাংলার বেশ কয়েকটি রাজধানী শহর অবস্থিত। এদের মাঝে লক্ষণৌতি বা লক্ষনাবতি, পুন্ড্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী তার আকর্ষণীয় রেশমীবস্ত্র (Silk), আম, লিচু এবং মিস্টান্নসামগ্রীর জন্য প্রসিদ্ধ। রেশমীবস্ত্রের কারনে রাজশাহীকে রেশমনগরী (Silk City) নামে ডাকা হয়। রাজশাহী শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের অনেকগুলির খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নামকরা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাজশাহী শহর শিক্ষানগরী নামেও পরিচিত।

১৮৭৬ সালের ১ এপ্রিল ভুবন মোহন পার্কের অভ্যন্তরে টিন সেডের দুটি কক্ষে রাজশাহী পৌরসভা (রামপুর-বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি) কাযর্ক্রম শুরু করে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে ১৯৮৭ সালের সালের ১৩ আগষ্ট রাজশাহী পৌরসভা পৌর কর্পোরেশনে উন্নীত হয় এবং এ্যাভোকেট এম. আব্দুল হাদি সরকার কতৃর্ক প্রশাসক মনোনীত হন। ১৯৮৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পৌর কর্পোরেশন সিটি কর্পোরেশনে পরিণত হলে জনাব এম. আব্দুল হাদি প্রথম মেয়র মনোনীত হন। পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার এর আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৭ সালে এ্যাড. এম. আব্দুল হাদি প্রশাসক হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং তারপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১২ বার বিভিন্ন জন বিভিন্ন মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৪.৯.২০০৮ থেকে ০৯.০৫.২০১৩ মাত্র সাড়ে চার বছরে এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন ভাই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মমাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটন ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধাবী পরিকল্পনায় মাত্র সাড়ে বছরে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আলোকায়ন, পরিচ্ছন্ন ফুটপাত, পদ্মার পাড় ও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশগত উন্নয়নসহ বহুমাত্রিক কর্মসূচির ফলে রাজশাহী মহানগরী বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর, মনোরোম ও পরিবেশে উপযোগী নগরীতে পরিণত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর হাই টেক পার্ক। রাজশাহী বাসীর বহু আকাঙ্ক্ষিত গ্যাস সরবরাহ লাভের মাধ্যমে গৃহকাজে মা-বোনদের কষ্ট লাঘব হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সার্ভে ইনস্টিটিউট সহ একাধিক কলেজ জাতীয়করণ ও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় প্রশস্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ও অত্যাধুনিক শপিংমল নির্মাণকাজ শুরু হয়। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে যুব সমাজের সুস্থ্য বিনোদনের নগরীতে পরিণত করেন রাজশাহীকে। সিটি কর্পোরেশনের অতীতের ২৮ কোটি টাকা ঘাটতি পূরণের পরেও তিনি প্রায় ১১ কোটি টাকা উদ্ধৃত রেখে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তদুপরি দ্বিতীয় মেয়াদ নির্বাচনে এ.এইচ.এম.খায়রুজ্জামান লিটন ভাইয়ের মত একজন জনবান্ধব নেতার মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে ভোটে পরাজয়ের মাধ্যমে থমকে আসে রাজশাহীর উন্নয়নের ধারা। সর্বশেষ মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হেসেন বুলবুল ১৮.০৯.২০১৩ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে অদ্যাবধি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের ধারা নিম্নমুখী করে যাচ্ছেন। রাজশাহী-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ স্থাপন, ব্যস্ততম সড়কে দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ, বিকেএসপি, নভোথিয়েটার, সিটি বিশ্ববিদ্যালয় সহ পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের মতো মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর কাজ থমকে আছে। গত পাঁচ বছরে লিটন ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে রাজশাহী শহর আগের চেয়েও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।

গত ২৯.৫.২০১৮ তারিখে তফসিল ঘোষনার কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী সফরকালে মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাএ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। নৌকার পক্ষে নগরজুড়ে পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। বাংলদেশ আওয়ামীলীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিদিনই নৌকার পক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছে। লিফলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন তথা খায়রুজ্জামান লিটনের মাধ্যমে রাজশাহীর উন্নয়ন এবং আগামী দিনে রাজশাহীকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমান অবস্থায় রাজশাহী নগরীকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে দেখতে সাধারণ ভোটাররাও লিটন ভাইয়ের নেতৃত্বের অভাব বোধ করছেন। ছাত্র-তরুণ সমাজ বিশ্বাস করে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিশ্রুতিশীল, সৎ ও যোগ্যতম ব্যক্তিটি আগামী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পুনরায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা পূরণে সক্ষম হবেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী এ.এইচ.এম. খায়রুজ্জামান লিটনকে আগামী ৩০ জুলাই নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত করলে রাজশাহীর অসমাপ্ত উন্নয়নগুলো সম্পন্ন হবে যার সুফল ভোগ করবে নগরবাসী এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে রাজশাহী নগরীতে পরিভ্রমণকারী আশেপাশের অঞ্চলের মানুষগুলো।

লেখকঃ

ডা. সাইফ জামান আনন্দ

* সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা

* সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা

* সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ শাখা

এই বিভাগের সর্বশেষ খবর