রাজশাহীর অর্না নাকি কুড়িগ্রামের শোভন? কে হচ্ছেন ছাত্রলীগের নতুন নেতা?

বার্তা ডেস্কঃ যেকোনো সময়ে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। শনিবার রাতে বিদায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে, তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কমিটি ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তবে কমিটিতে কে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন, তা একমাত্র শেখ হাসিনাই জানেন। যাঁদের বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর ৩৬৪ দিন অর্থাৎ ২৯ বছরের একদিন কম, তারাই এবারের কমিটিতে থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা এবং ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতাদের ‘অতি উৎসাহে’র কারণে প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষা করছেন। শেখ হাসিনা ভালো করে পরখ করে দেখতে চাইছেন যে, যাঁদের তিনি পছন্দ করেছেন, তাঁরা কারও পকেটের কিনা। ছাত্রলীগ কমিটি নিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতেই প্রধানমন্ত্রী কালক্ষেপণের নীতি গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, উত্তরাঞ্চলের আওয়ামী লীগ পরিবারের কেউ একজন ছাত্রলীগের সভাপতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতার দাদা এবং বাবা আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তিনি চট্টগ্রামের। তারা বিদায়ী কমিটিতে ছিলেন।

তবে এসব চূড়ান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী এখনো দুই পদে তিন/চারটি নাম বিবেচনায় রেখেছেন। যারা শুধু ছাত্রলীগের প্রতি অনুগত হবে, কোনো বিশেষ নেতার প্রতি নয়, এবার তারাই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পাবে।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে স্থান পেয়েছে উত্তরাঞ্চলের তিন ছাত্রলীগ নেতা। এরা হলেন, বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি ড: আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

এদের মধ্যে রাজশাহীর মেয়ে ডা: আনিকা ফারিহা অর্ণা জামান জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের নাতনি। তার বাবা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র।

কুড়িগ্রামের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের দাদা গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শোভনের দাদা শামসুল হক চৌধুরী ছিলেন ১৯৭০ সালের গণপরিষদের সদস্য। এরপর ১৯৭১ ও ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য ছিলেন। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী বর্তমানে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একই উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পঞ্চগড়ের আরেক ছেলে হোসাইন সাদ্দাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র।

গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখনো ছাত্রলীগের কমিটির ঘোষণা হয়নি। এবার আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পছন্দে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বশেষ খবর