অবশেষে আগামীকাল রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ

  • Date: April 14, 2018
  • cat
  • | Post By: চাঁপাই বার্তা.কম (M)

বার্তা ডেস্কঃ অনুমোদন জটিলতার কারণে দুই দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে আগামী ১৫ এপ্রিল হবে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ। তবে বিএনপিকে সমাবেশ করতে হচ্ছে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার এলাকার ভূমন মোহন পার্কেই। মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ পার্কে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের ১০ সাংগঠনিক জেলা নিয়ে এ সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশ ঘিরে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নিয়েছে রাজশাহী বিএনপি। জায়গা ছোট হওয়ার কারণে ভূবন মোহন পার্কের ভিতরে শুধুমাত্র মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর ছেলেরা থাকবে পার্কের দুই পাশের রাস্তায়।

নগর বিএনপির একটি সূত্র জানায়, গত ৩১ মার্চ ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ করার আবেদন করে বিএনপি। সেখানে সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে গত ৮ মার্চ রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়। ওইদিন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নেতৃত্বে বিএনপি একটি দল সরাসরি আরএমপির কমিশনারের হাতে আবেদন তুলে দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাদের জানানো হয় ওই দিন সমাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না। এর পর ৪ এপ্রিল সমাবেশের দিন ধার্য করে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়। ৪ এপ্রিল ঘিরে সমাবেশের প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। তবে ওই দিন রাজশাহীতে পুলিশের আইজিপি সফরে আসার কারণে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। গত ২৯ মার্চ রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতারা ১৫ এপ্রিল সমাবেশের দিন ঘোষণা করেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই মহানগর পুলিশ কমিশনারের হাতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত করেছি। আশা করেছিলাম, পুলিশ আমাদের মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভূবন মোহন পার্কে অনুমতি দিয়েছে। ছোট জায়গা হলেও সেখানেই সমাবেশের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে আমরা এরই মধ্যে জেলায় জেলায় প্রচার চালানো হয়েছে। জায়গা

এদিকে, বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার বিকেলে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার এবং দেশব্যাপী আমাদের গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্ত করে সরকার ভুল করছে। যখন পতন ঘনিয়ে আসে তখন একটির পর একটি ভুল হতেই থাকে। বেগম জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে যে সাজা প্রদান করা হয়েছে তা জনগণের নিকট পরিষ্কার। জনগণ এখন ক্ষুব্ধ।’

তিনি বলেন, ‘কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল প্রতিবাদ সভা বা প্রচারণা করতে পারবে না এটি গণতন্ত্রহীনতা। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে সরকার বাঁধা দিচ্ছে। রাজশাহীর মাটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে সব ধরনের নির্বাচনে সবসময় বিএনপি-ই বিজয়ী হয়। অথচ এখানেও আমাদের নামমাত্র সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ার পারর্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করায় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছে। জনজগণের আন্দোলনের রোষে এখন সরকার ভীত সন্তস্ত্র। নির্বাচনকে অংশগ্রহনমূলক করার দাবি এখন গোটা বিশ্বের। সরকার চাচ্ছে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখেই ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করার।’

দেশব্যাপী আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে সরকার বিভিন্ন আন্দোলনে আমাদেরকে বাঁধা দিচ্ছে। কোন ধরনের সভা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। দিলেও তা নামমাত্র। সরকার যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলছে সেই নির্বাচন তখনই সম্ভব যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’ এ সময় তিনি বর্তমান সংসদ বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি বরকতুল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, রাজশাহী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি প্রমুখ।

এই বিভাগের সর্বশেষ খবর