স্বামীকে খুন করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছক স্ত্রীর?


রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: একই সঙ্গে প্র্যাকটিস। কর্মসূত্রে পরিচিতর সুবাদে অন্য আইনজীবীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। যা থেকে পারিবারিক অশান্তি। স্বাম-স্ত্রীর আলাদা থাকা। ডিভোর্সের জন্য স্ত্রীর ৫০ লক্ষ টাকা দাবি। শেষ পর্যন্ত স্বামীর রহস্যমৃত্যু। কাঁথি মহকুমা আদালতের তরুণ আইনজীবী প্রসূন দাসের মৃত্যুর ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। মৃতের ঘনিষ্ঠরা ঘটনার সিআইডির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এমনকী তাদের অভিযোগ, মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিষের মধ্যে পারদ মেশানো হয়েছিল।

গত ২৪ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা আদালতে মামলা সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন কাঁথির কুমারপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রসূন দাস। এর পরের দিন সকালে মেদিনীপুরের এক আইনজীবী প্রসূনের বাড়িতে ফোনে করেন। তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন প্রসূন। সুস্থ ছেলের আচমকা মৃত্যুর খবর, পরিবারের লোকেরা বিষয়টি মানতে পারেননি। তাঁর পরিবারের লোকেরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে দেখেন প্রসূন মৃত। ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে, তাঁর বন্ধুরা জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে। এদিকে পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই আইনজীবীর স্ত্রী অয়না দে (দাস) ৫ মাস আগে থেকে কাঁথি শহরে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। তবে প্রসূনের বাড়ির লোকজন পৌঁছানোর আগে প্রসূনের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মেদিনীপুর মেডিক্যালে পৌঁছে যাওয়ায় মৃতের পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত করা হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু ঘটেছে প্রসূনের।

মৃতের পরিবারের দাবি, দিব্যি সুস্থ অবস্থায় প্রসূন গড়বেতা গিয়েছিলেন মামলার কাজে। সেখান থেকে কেন মেদিনীপুরে তিনি গিয়েছিলেন? মৃতের বাবা শান্তনু দাস পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, বউমা অয়না মেদিনীপুরের তিনজন আইনজীবী বন্ধুকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে খুন করিয়েছে। আর তা ধামাচাপা দিতে হৃদরোগে মৃত্যু ঘটেছে বলে চাউর করা হয়। এই ঘটনায় হাত রয়েছে অয়নার মা মনোরমা দে এবং বাবা অরুণ দে-র। পাশাপাশি মেদিনীপুর আদালতের তিন আইনজীবী দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী, রঞ্জন মাইতি ও অনিরুদ্ধ দে পরিকল্পনা করে প্রসূনকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। প্রসূনের পরিবারের অভিযোগ, উচ্চাকাঙ্খা ছিল অয়নার। তাই মেদিনীপুরের অন্যান্য আইনজীবী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য স্বামীর উপর চাপ বাড়াত। স্ত্রীর এমন আচরণের প্রতিবাদ করতেন প্রসূন। যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। এই কারণে স্বামীকে ছেড়ে পাঁচ মাস আগে অয়না আলাদা থাকতে শুরু করেন। তবে গত ২২ নভেম্বর অয়না তার মা ও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যায়। তার জিনিসপত্র নিয়ে যেতে চায়। সেইসঙ্গে প্রসূনকে ডিভোর্সের জন্য ৫০লক্ষ টাকা দাবি করে অয়না। প্রসূন দিতে অস্বীকার করায় তাকে খুনের হুমকি দেয়। এমনকী লকারের চাবি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার একদিন পরেই ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছায় বাড়িতে।


এই বিভাগের আরও খবর

  • ঢাবির প্রশ্ন প্রেস থেকে ফাঁস

  • স্ত্রীকে ওড়না পেচিয়ে হত্যার পর লাশ নিয়ে শশুর বাড়িতে হাজির স্বামী!

  • স্বামীকে খুন, সার্জারি করে প্রেমিককে স্বামীর চেহারা দিলেন স্ত্রী!

  • কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পরিদর্শক প্রত্যাহার

  • নিজ ফ্ল্যাটে যুবক খুন , এক তরুণী আটক

  • শিশুদের পর্নোগ্রাফি দেখিয়ে শ্রীঘরে ডাক্তার

  • মায়ের সহযোগিতায় মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করত বাবা!

  • শহরের গেস্ট হাউসে অভিযান, ৭ পতিতা সহ খদ্দের আটক

  •