রাজশাহীতে দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারাচ্ছেন খাদ্য কর্মকর্তা


রাজশাহী: রাজশাহীতে দুনীর্তির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন, নারী সহকর্মীদের হয়রানি ও গম কেলেকারিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত বহুল আলোচিত সেই খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিম এবার চাকরি হারাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার খাদ্য অধিদফতর তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি দুদকে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে ।

সংশিষ্ট সূএ ও খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের চিঠি থেকে জানা গেছে , ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএরএসডি)হিসেবে রয়েছেন আবদুল রহিম।অধীনস্থ তিনজন নারী উপখাদ্য পরিদর্শক তার বিরুদ্ধ গুরুতর অসদাচরনের অভিযোগ করেন । আর এসব নারী কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখোনো অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক কথা বলা এবং তাদের প্রতি অশোভন আচারন করেছেন আব্দুর রহিম।এমননি তার কথা না শুনেলে তাদের বদলি করে দেয়ার হুমকি দেন তিনি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রশাসন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে আবদুল রহিমের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারিদের বাদ দিয়ে গুদামের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের গুরুত্ব দেয় ও অসৌজণ্যমূলক আচারন করে। আবদুর রহিম সরকারি গুরুত্বপূন কাজ দায়িত্বশীল কর্মচারি মাধ্যমে না করিয়ে তার আত্বীয় গুদামের নিরাপত্তা কর্মী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে করান।অভিযোগ রয়েছে আসাদুজ্জামানকে অন্য খাদ্যগুদামে থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামে বদলি করে আনা হয় দুর্নীতি ও অনিয়ম কাজ করার জন্যই। রহিমের নামে খাদ্যগুদামে চাকুরির নীতিমালা সুস্পষ্ট লঘন করার প্রমানও মিলেছে । মহাপরিচালকের চিঠিতে উঠে এসেছে রহিমের আরও অপকর্মের কথা । এসব কর্মকান্ডের কারণে খাদ্য বিভাগে ভাবমূতি ক্ষুণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ।

২০১৫ সালে ৪ আগষ্ট ২৪৪৮ নম্বর স্বারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য বিভাগ ।তদন্ত রহিমের বিরূদ্ধে আনীত সব অভিযোগের প্রমান হয় ।

১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল ) বিধিমালার বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ ( বি ) মোতাবেক খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ আব্দুর রহিমকে চাকুরি হতে বাধ্যতামুলক অবসর প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় । এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে ।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ১৮ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও গম কেলেঙ্কারী সহ বিভিন্ন অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ।

দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ( অনু ও তদন্ত-১) মোসা মাহফুজা খাতুন স্বাক্ষরিত ২০১৭ সালের ৭ই মে মাসের একটি পত্রে রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানাগেছে ।

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাসটার্মিনাল মার্কেটে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে অত্যাধুনিক আবাসিক হোটেল আনজুম ইন্টারন্যাশনাল , এই মার্কেটে ১৫ টি দোকান এবং নওদাপাড়া বাসটার্মিনাল এলাকায় ৪০টি দোকান যার মুল্য কয়েক কোটি টাকা । এছাড়াও নগরীতে রয়েছে ৪ টি বাড়ী ৬ টি প্লট এবং শ্বশুর বাড়ী নাটোরের লালপুর এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মুল্যের শতাধিক বিঘা জমি রয়েছে। আব্দু রহিমের বিরুদ্ধে চাকুরি বাানিজ্য , বদলি বানিজ্য ও চেক জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে ।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে , রাজশাহী মহানগরীর প্রভাবশালী একজন নেতা ও বাংলাদেশ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির সভাপতি এখনও তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অপকর্মের তদবির এবং সাজা মওকুফের তদবির করছেন ।

 

 


এই বিভাগের আরো খবর

  • রাজশাহীতে ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম সদস্য গ্রেপ্তার

  • রাজশাহীতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনি

  • ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে মুদি দোকানেও।

  • রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

  • মডেল কন্যা রাওদার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা, চূড়ান্ত প্রতিবেদন

  • রাজশাহীতে পিটনী খেয়ে আহত ছাত্রলীগকর্মী

  • রাজশাহীর চারঘাটে ১১৪৫ পিচ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

  • গোদাগাড়ী কমিউনিটি পুলিশিং এর মত বিনিময় সভা

  •