বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যা দেখলেন রাখাইনে


মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানও।

সেই সফর থেকে ফিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান জানান, রাখাইনে গিয়ে তিনি বাস্তুচ্যুত বহু রোহিঙ্গার মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখেছেন এবং তারা নিজেদের গ্রামে আর ফিরে যেতে চান না বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেখানে যেভাবে ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে, তা `হঠাৎ করে ঘটেনি` বলেই তার মনে হয়েছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী আরো চারটি দেশ অর্থাৎ চীন, ভারত, থাইল্যান্ড এবং লাওসের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইনের পরিস্থিতি দেখাতে মঙ্গলবার সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা।

সরকারি সহযোগিতায় সেই সফর সেরে ফেরার পর সুফিউর রহমান বলেন, গোটা অঞ্চল জুড়ে আমি মাইলের পর মাইল ধরে যে পোড়া বাড়িঘর দেখেছি, তা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এ জিনিস হঠাৎ করে হয়নি বলেই আমার মনে হয়েছে।

সফরে তার সঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও একই রকম `কাছাকাছি ভাবনা`র শরিক বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, পাঁচ বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বৌদ্ধপ্রধান রাথিডং এলাকার একটি গ্রামে, যেখানে একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামে কিছু মুসলিম রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তারপর রাখাইনের সাগরপাড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামেও তারা আকাশপথে হেলিকপ্টারে চেপে ঘুরে দেখেন। পরে তিন/চারটি জায়গায় তাদের গাড়িতে চাপিয়েও নিয়ে যাওয়া হয়।

সব জায়গাতেই স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা হয়েছে সরকারি দোভাষীদের মাধ্যমে। কথোপকথনের সময় সরকারি কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সুফিউর রহমান বলেন, এই মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিল চরম নিরাপত্তাহীনতার ছাপ। তারা বলছিলেন তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা। নিজের গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এই মানুষেরা। তবে তারপরেও তারা যে সেখানে আর ফিরতে চান না সে কথা আমাদের খোলাখুলিই বলেছেন।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা একটু আড়াল হতেই তাদের কথাবার্তা থেকে একটু অন্যরকম আভাসও পাওয়া যায়। বোঝা যায়, সে কথাগুলো তারা সরকারের প্রতিনিধিদের সামনে বলতে সাহস পাননি।

সেই আভাসটা কী ধরনের, এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত রহমান বলেন, তারা যে কথাটা মুখ ফুটে বলতে পারেন না বলে মনে হয়, সেটা হলো তাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা শুধু একটা প্রতিবেশী ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে না। এর পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক হাত রয়েছে বলেও তাদের কথা থেকে ইঙ্গিত মেলে। কিন্তু সাহসে ভর করে তারা কারো নাম উচ্চারণ করতে পারেন না।

তার সফরসঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও এই মানবিক সংকটের ব্যাপকতা দেখে বিচলিত বলে সুফিউর রহমানের মনে হয়েছে। তারা সবাই এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে, যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট মোকাবিলা করা দরকার।

তবে তারা এটাও বিশ্বাস করেন, এ কাজ একা মিয়ানমারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক সহায়তা লাগবে।


এই বিভাগের আরও খবর

  • মাসে কোটি টাকার উপর আয় ৬ বছরের খুদের

  • শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন আপনিও, যেভাবে পাবেন

  • গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ৫৬ জন যুবকের টাকায় নির্মিত হল ভাসমান সেতু

  • ‘একটি কিডনি দেব.. তবে বিয়ে করতে হবে’

  • রহস্যময়ী কালভৈরব মন্দির, যেখানে প্রভু মদ্যপান করেন

  • ৮ হাজার মালিকের এক প্রাসাদ

  • সকল পুরুষকে ন্যূনতম দু’টি বিবাহ করতেই হবে, দুই বউ না থাকলেই জেল!

  • পিয়াজ কাটলে মানুষ কাঁদে কেন?

  •