টকশোতে সরব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা


মেহেদী হাসান ডালিম: ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। শৈশবে হতে চেয়েছিলেন সংগীত শিল্পী কিন্তু বাবার অনুপ্রেরণায় আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এখন ব্যারিস্টার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল স্টাডিজে শিক্ষকতাও করছেন। এখন নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন টিভি টকশোতে কথা বলেন। নারী-শিশু অধিকার নিয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন। আমৃত্যু সমাজের অবহেলিত নারী-শিশুর অধিকার নিয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে চান সানজানা।

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ভালবেসে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন করপোরেট ল’ইয়ার ব্যারিস্টার ওমর এইচ খানকে। তিনি লিগ্যাল কাউন্সেলের হেড অব চেম্বার্স। একসঙ্গে করপোরেট ল’তে প্র্যাকটিস করছেন স্বামী-স্ত্রী। জীবনের নানান দিক নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান ডালিম।

শৈশব-কৈশোরের গল্প …

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা: দেশের বাড়ি বগুড়ায়। জন্ম ঢাকাতে। বাবা জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক ও সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান ছিলেন। তার নাম ড. মনোয়ার জাহান। মা ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

বাবার চাকুরির সুবাদে জাদুঘর ক্যাম্পাসেই বেড়ে উঠেছি। ঢাকায় অগ্রণী স্কুলে পড়েছি। তারপর নিউ ক্যাসেল থেকে এ লেভেল করি। পরে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি অনার্স করি। এলএলবি অনার্স শেষ করে আমি লিংকন ইন থেকে বার এট ল সম্পন্ন করি।

আইন পেশা শুরু করলেন কবে থেকে?

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা: বার এট ল শেষ করে ২০০৬ সালে দেশে আসি। আসার পরে একটি করপোরেট চেম্বারে কিছুদিন কাজ করি। আমার সিনিয়র ছিলেন জিয়াউল হাসান। উনি জাস্টিস গোলাম রব্বানীর ছেলে। চেম্বারের কাজ কিছু দিন করার পর সেখান থেকে ব্র্যাক ব্যাংকে হেড অব লিগ্যাল হিসেবে জয়েন করি। ব্র্যাক ব্যাংকে কাজ করার পর আরেকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতেও কিছুদিন কাজ করি। আসলে ছকে বাধা দেয়ালের ভেতরে থাকতে চাইনি। যার কারণে আমি নিজে ছোট একটা চেম্বার দিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করি।

আইন বিষয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা কোথায় পেলেন ?

মিতি সানজানা: আমি একটা সংস্কৃতিমনা ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার প্রতি যতটুকু গুরুত্ব ছিল, সাথে নাচ গান ছবি আঁকা এই জিনিসগুলো ঠিক পড়ালেখার মতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের কাছে। প্রচুর কালচারাল একটিভিটিস-এর সাথে ইনভলভ ছিলাম। তখন আমার মনে হতো আমি বড় হয়ে সংগীত শিল্পী হব। না হয় নৃত্য শিল্পী হবো। কিন্তু আমাদের ফ্যামিলিতে কোন ল’ইয়ার ছিল না। তাই হঠাৎ করেই আমার বাবার অনুপ্রেরণায় ল পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ল পড়তে গিয়ে ইন্টারেস্টও পেলাম। এখন মনে হয় গায়িকা হতে পারিনি, নৃত্য শিল্পী হতে পারিনি, এটা একটা কষ্ট আছে। কিন্তু লইয়ার তো হয়েছি।

ইংল্যান্ডে কাটানো দিনগুলোর মধ্যে বিশেষ কোন স্মৃতি মনে পরে কি ?

মিতি সানজানা: ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে যাই। একটা মজার ব্যপার ছিল, যে ইয়ারে আমি বার এট ল করেছি সেই ইয়ারে প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি ছিল। যার কারণে আমার কখনও মনেই হতো না আমি বিদেশে আছি। কারণ, লিংকন জেনে বা ওই সমস্ত রাস্তা দিয়ে যখনই হেটে হেটে লাইব্রেরিতে বা অন্য কোথায়ও যাচ্ছি দেখা যেত সামনে এসে কেউ দাঁড়াচ্ছে। খুব ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা, যে বছর আমরা বার এট ল করলাম সে বছর ১৬ ডিসেম্বরে আমরা বিশাল প্রোগ্রামের আয়োজন করি। যেখানে অক্সফোর্ড-কেমব্রিজ থেকে অনেক স্টুডেন্ট আমাদের প্রোগ্রাম দেখতে এসেছিল। সেখানে আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরি।

বর্তমানে আইন পেশায় আপনার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই ?

মিতি সানজানা : ২০০৮ সালে হাইকোর্টে আমার এনরোলমেন্ট হয়েছে। প্রথমে আইনজীবী জিয়াউল হাসানের জুনিয়র হিসেবে দেড় বছর কাজ করি। পরবর্তী সময়ে আমি করপোরেট ল এর প্রতি ঝুঁকে পরি। ২০০৯ সালে আমি নিজেই ক্ষুদ্র একটি চেম্বার দিয়ে ব্যাংকিং-এ প্র্যাকটিস শুরু করি। বর্তমানে ২৫ টির মতো ব্যাংকে লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে নিয়োজিত আছি। আমার জীবনসঙ্গীও আমার চেম্বারের পার্টনার, ব্যারিস্টার ওমর এইচ খান। বাংলাদেশে স্বনামধন্য করপোরেট যে চেম্বার সেই চেম্বারের নাম লিগ্যাল কাউন্সিল। আমাদের আন্ডারে প্রায় ১২ জন তরুণ ব্যারিস্টার আছে যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেন। আমরা বিভিন্ন কোম্পানি ম্যাটার, বিদেশী বিনিয়োগ, ব্যাংকের লোন সংক্রান্ত কাজ করে থাকি। এছাড়া আমি ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে ফ্যামিলি ম্যাটার নিয়ে কাজ করি। মুসলিম পারিবারিক আইন অর্থাৎ তালাক, সন্তানের কাস্টডি, অভিভাবকত্ব নির্ণয় এবং অভিভাবকত্ব রিলেটেড কাজগুলো আমি প্রতিনিয়ত করে থাকি।

আপনি তো ডিভোর্স সংক্রান্ত কেস নিয়ে কাজ করেন। এ বিষয়ে স্মরণীয় ঘটনা বলুন ?

মিতি সানজানা: আসলে ব্যাপারটিই বেদনাদায়ক। কেননা ডিভোর্সের বিষয়টি সবচেয়ে অপছন্দীয় ও ঘৃণিত বলা হয়। যখন ডিভোর্স হয়ে যায় পুরুষ হয়তো আবার জীবনসঙ্গী পেয়ে যায় কিংবা মহিলা আবার নতুন করে জীবনসঙ্গী পেয়ে যান কিন্তু যে শিশুটি থাকে সত্যিকারের ক্ষেত্রে সাফার করে থাকে সেই সন্তানই। তারাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটা ডিভোর্সের কারণে। এমন অসংখ্য কেস দেখেছি যেখানে অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়তো তিনি একটি ইউনিভার্সিটি টিচার, অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করছেন। কিন্তু ঘরে যখন ফিরছেন তখন তিনি স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত। এমনকি ফিজিক্যাল ভাবে টর্চারের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে উচ্চবিত্ত শিক্ষিত পরিবারেও। এ ধরণের অনেক কেস পেয়েছি, সেক্ষেত্রে তারা হয়তো অনেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলাদা হয়েছেন। কিন্তু সন্তানরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। কোর্টে যখন এ সমস্ত মামলা নিয়ে যাওয়া হয়। ডেটের পর ডেট পরে। দীর্ঘ সুত্রিতার ব্যাপার। মামলা চালানোর জন্য তাকে বাবা-ভাই বা অন্য কোন পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এমনও কেস দেখেছি যেখানে বাচ্চা হওয়ার পর আর ওই পুরুষ সন্তানের কোন খোজ নেননি।

আপনি তো নারী-শিশুর অধিকার নিয়ে কথা বলেন, সে বিষয়ে জানতে চাই …

মিতি সানজানা : পত্রিকায় আমি প্রতিনিয়ত নারী-শিশুর অধিকার, নারী নির্যাতন বিষয়ে বিভিন্ন কলাম লিখে থাকি। ঢাকা ট্রিবিউন, নিউ নেশন, ডেইলি স্টার ইত্যাদি পত্রিকায় লেখালেখি করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে প্রত্যেকটি কাজ আমি সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে করি। নিজে কিন্তু কোন এনজিওর সাথে ইনভলব না, কোন এনজিওর ব্যানারে কাজও করছি না। অন্য কোন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি না। প্রত্যেকটা জিনিস নিজ উদ্যোগে করছি।

বিভিন্ন টিভির প্রোগামে নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছি। সামাজিক অবক্ষয়, নারীর প্রতি সংহিসতা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত জনগণকে সচেতন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে জড়িত আছি।

শুনেছি আপনি আইন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন, সে বিষয়ে জানতে চাই …

মিতি সানজানা : শিক্ষকতার সঙ্গে আমি অনেক বছর জড়িত। এর আগে লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ, দি স্কুল অব ল তে অল্প কিছু দিন পড়িয়েছি। সেখানের অনেক স্টুডেন্ট আছে। আমার ভাল লাগে দেখতে তাদের মধ্যে অনেকেই ব্যারিস্টার হচ্ছেন, অনেকেই প্র্যাকটিস করছেন। এছাড়াও শ্রম আইন নিয়ে আমি ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটিতে একটি কোর্স নিচ্ছি।

টকশোতে সাধারণত কি কি বিষয়ে কথা বলে থাকেন ?

মিতি সানজানা : সাধারণত লিগ্যাল ইস্যুগুলা নিয়ে টিভি টকশোতে কথা বলে থাকি। অডিয়েন্স-ভিউয়ারস তারা বিভিন্ন লিগ্যাল অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়। আইনি সমস্যার সমাধান লাইভ প্রোগামগুলোতে দিয়ে আসতাম। ইদানিং সমাজের বঞ্চিত নারী-শিশুর অধিকার, সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে আমি বিভিন্ন টকশোতে কথা বলি। যদিও পলিটিক্যাল টকশোগুলোতে যাই। সেখানে আমি গঠনমূলক সমালোচনা করতে কখনও পিছপা হই না। তবে নারীদের ইস্যু নিয়ে স্যোশাল ইসু নিয়ে কথা বলতে বেশি পছন্দ করি।

প্রথম দিনের টকশোর স্মৃতি মনে আছে কি?

মিতি সানজানা : এটা আসলে বেশ কয়েক বছর আগের কথা কিন্তু প্রথম যে প্রোগামটা ছিল সেটা গাজী টিভিতে লাইভ প্রোগাম ছিল। আমি আগে থেকেই কথা বলতে পছন্দ করি। তাই আমার প্রথম দিনেও মনে হয়নি সামনে কোন ক্যামেরা আছে বা আমাকে যে হাজার হাজার দর্শক দেখছে সেটি প্রথম দিনেও ফিল করিনি। এখনও করি না।

এই পেশায় নারী হিসেবে কি কোন কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন?

মিতি সানজানা : বিভিন্ন বাধা তো মানুষকে পার হতে হয়, একটি হয় পারিবারিক বাধা, একটি সামাজিক বাধা, নানা ধরণের। পরিবারের দিকে যদি তাকাই আমার পরিবার অত্যন্ত লিবারেল এবং মুক্তমনা। আমার ভাই লন্ডনে কিংস কলেজে পড়ালেখা করেছে, আমিও লিংকন জেনে গেছি ব্যারিস্টারি পড়তে। তো পারিবারিকভাবে কখনও বাঁধার সন্মুখীন হইনি। আমার স্বামী প্রত্যেকটি কাজে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। লেখালেখির ব্যাপারে উনি সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আসলে আমি কখনও বাধার সন্মুখীন হইনি বরং আরো সাপোর্ট পেয়েছি। তবে কর্মক্ষেত্রে কখনও বাধার সন্মুখীন হইনি- এটা বললে ভুল বলা হবে। অনেক সময় বাধার সন্মুখীন হয়েছি। সেগুলোকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি এবং সে চ্যালেঞ্জ আমি মোকাবেলা করেছি।

আপনার স্বামীও তো একজন ব্যারিস্টার। তার সঙ্গে পরিচয়-বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাই …।

মিতি সানজানা : আমি আপনাকে শুরুতে বলেছিলাম খুব সংস্কৃতিমনা পরিবারে আমি বেড়ে উঠেছি। আমার জীবনসঙ্গী ব্যারিস্টার ওমর এইচ খান একজন স্বনামধন্য করপোরেট ল’ইয়ার। উনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে প্রচুর কাজ করছেন। ডেইলি স্টারের ইয়োর অ্যাডভোকেটস কলামে দীর্ঘ ১০ বছর লিখে যাচ্ছেন। ঢাকাতেই উনি বেড়ে উঠেছেন। উনার সাথে পরিচয় অনেক বছর আগেই। ওমর এইচ খান খুব ভাল গান গাইতেন। ভাল রবীন্দ্র সংগীত গান। এ রকম একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ২০০০ সালের প্রথম দিকে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর বন্ধুত্ব। এরপর ২০০৭ সালে পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়। ২০০৯ সালে আমাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। ওর নাম রেখেছি অরিত্র। সানবিমসে ক্লাস ওয়ানে পড়ে।

দেশ ভ্রমণ তো আপনাদের নেশা। তা কতগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন?

মিতি সানজানা : আমার ও আমার স্বামীর দুইজনের শখ বিদেশ ভ্রমণ করা। আমার স্বামীর শখ বিশ্বের সেইসব দেশগুলোতে বেড়ানো যেসব দেশে সাধারণত কেউ যায় না। যেমন গতবছর আফ্রিকার একটি দেশ, দূরের একটি দ্বীপ সেসেজ নামে পরিচিত সেখানে গিয়েছিলাম। সেসব দেশে বাংলাদেশি লোকও খুব একটা খুজে পাওয়া যায় না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ফিনল্যান্ড, প্যারিস, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন প্রত্যেকটি দেশেই আমরা গিয়েছি। কিছুদিন আগে আমরা মিশর থেকে ঘুরে এলাম। আমরা দুইজনই আসলে খুব ভ্রমণপিপাসু। সময় পেলেই আসলে আমরা বিভিন্ন দেশে চলে যাই। একটা সুটকেস গুছানোই থাকে যেন খুব শর্ট নোটিশে আমরা যে কোন জায়গায় চলে যেতে পারি।

অবসর সময় কীভাবে কাটে ?

মিতি সানজানা : অবসর সময়ে আমি গান গাইতে খুব পছন্দ করি। রবীন্দ্র সংগীত, রবীন্দ্রনাথ আমার জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছেন। সকাল বেলা রবীন্দ্র সংগীত শুনে আমার ঘুম ভাঙে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও আমি রবীন্দ্র সংগীত শুনি। আমার ছেলেকেও আমি বরীন্দ্র সংগীত শেখাই।

এছাড়া পেইন্টিং কালেকশন আমার অন্যতম একটি প্রিয় শখ। আমার কালেকশনে অনেক পেইন্টিং আছে। আমার কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেইন্টিং যেমন কামরুল হাসান, শিল্পী এস এম সুলতান, এছাড়া অনেক নাম করা শিল্পী শাহবুদ্দিন, কাইয়ুম চৌধুরী এই ধরণের বরণ্যে শিল্পীদের খুব দূর্লভ পেইন্টিং আমার সংগ্রহে রয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই …

মিতি সানজানা : মানবাধিকার, নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে কাজ করে যাওয়া। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমি আসলে তরুণ সমাজকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

একজন ছেলেকে যখন শেখাবো নারীর প্রতি তার কি কর্তব্যে একজন মহিলাকে কীভাবে সন্মান দেখাতে হয়, তখনই সমাজে সমতা আসবে। এ কারণে আমার ইচ্ছা তরুণ সমাজকে নিয়ে কাজ করা। এ ছাড়া মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য একটি সংগঠন করতে চাই ভবিষ্যতে। কারণ, সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করলে বক্তব্যটি আরো জোড়ালো ভাবে যথাযথ কতেৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো যায়।

আইন পেশায় নতুনদের জন্য পরামর্শ …

মিতি সানজানা : যে পেশাতেই আপনি যান প্রত্যেকটি জায়গা চ্যালেঞ্জিং, অনেক প্রতিবন্ধকতা পার হতে হয়। কিন্তু দিনের শেষে এই প্রতিবন্ধকতাই আপনার সাফল্য যাত্রার একটি অংশ। সাফল্যের স্বাদ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে। এটাই জীবন। এটাই পার্ট অব দ্যা জার্নি। কাজেই প্রতিবন্ধক দেখে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। প্রত্যেকটা প্রতিবন্ধক মোকাবেলা করতে হবে। কাজে লেগে থাকতে হবে। মনোনিবেশ করতে হবে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ …

মিতি সানজানা : আপনাকে এবং রাইজিংবিডির পাঠকদেরকেও ধন্যবাদ …।


এই বিভাগের আরও খবর

  • যে প্রক্রিয়ায় বিধিমালা হয়েছে সেটি সংবিধান বহির্ভূত: ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম

  • কীভাবে এবং কেন আমি আওয়ামী লীগ করি

  • তনুর পরে কি আমি?

  • রোহিঙ্গাদের কান্না মানবতার কান্না, এই কান্নার আওয়াজ শুনতে হবে : খ্রিস্টান গুরু

  • লোকটি যে ধামাধরা তা বুঝবেন কীভাবে : গোলাম মাওলা রনি

  • মাতৃত্ব কোনো পেশা নয়: প্রিয়তি

  • সামাজিকতা,না কি সামাজিক ব্যাধি!

  • অতি সামান্য অংক

  •