,


রোহিঙ্গা, এমন কোন যুবতী নেই যাকে ধর্ষণ করা হয়নি

ইনানি বিচকে হাতের ডানে রেখে টেকনাফের দিকে কয়েক কিলোমিটার গেলেই শাপলাপুর গ্রাম। এই গ্রামেই আশ্রয় নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এদের অধিকাংশই চলতি সপ্তাহেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে।

তেমনই একজন নূর মোহাম্মদ জানালেন, ভোরের দিকে চোখে পড়ে নৌকায় করে মানুষ আসছে। নৌকায় তিল ধারণের জায়গা থাকে না। এসব মানুষের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যাই বেশি। নৌকা থেকে যখন এরা নামে নারীদের কোলে থাকে শিশু আর বৃদ্ধদের হাত ধরে রাখে ১০ থেকে ১২ বছর
বয়সি শিশুরা। এরা সবাই বলতে গেলে এক কাপড়েই এ দেশে চলে এসেছে। বেশির ভাগ মানুষের কাছে কোনো ব্যাগ বা পুটলি নেই। বোঝাই যায়, কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে এসেছে তারা।

দিল মোহাম্মদ নামে একজন বলেন, মিয়ানমারের পুলিশ, সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বেসামরিক মানুষরা মিলে খুনের নেশা মেতে উঠেছে। নির্বিচারে গুলি করা হচ্ছে। গুলি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না তারা, গলা কেটে তা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলছে। হামলার কোনো দিন-রাত নেই।

মোহাম্মদ রসুল জানালেন, হামলার ভয়ে মানুষ মূড়ায় (পাহাড়ি বন) গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেও মুক্তি নেই। নির্বিচারে গুলি করা হয়। বনেও লাশ পাওয়া যায় রোহিঙ্গাদের।

দেশ ছেড়ে তরুণ আর তরুণী রোহিঙ্গারা আসে না? ওরা কোথায়? ষাটোর্ধ রহিম উল্লাহ বলেন, ওদের বাঁচিয়ে রাখলে তো! হামলা হলে সবার আগে মারা হয় তরুণ ও যুবকদের। গুলি করে থেমে থাকে না, মৃত শরীরটাকে নিয়েও যাচ্ছেতাই করে ওরা। আর তরুনী? অবিবাহিত কোনো মেয়ে নেই যারা ধর্ষণের শিকার হয়নি। ধর্ষণের পর ওদের বাঁচিয়ে রাখে না তারা। গলা কেটে হত্যা করে।