রোহিঙ্গা মারা গেলে মুসলিম বিশ্বের কি?


ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, পাকিস্তান, সৌদিআরব, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, মালয়েশিয়া। শুনেছি এরা নাকি মুসলিম দেশ। আসলে কি এরা সত্যি মুসলিম দেশ? আমার সন্দেহ হয় যে তারা কি আদৌ কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী চলে কিনা? যদি চলে তবে মায়ানমার নিয়ে তারা কোন কথা বলে না কেন? রাসুল (সাঃ.) বলেন, তোমরা যা খাবে তোমার ভাইকে তাহা খাওয়াবে। তোমার কোন মুসলিম ভাইয়েরা কষ্টে থাকলে তাহাদের কষ্ট লাঘব করবে কিন্তু কই মুসলিম দেশগুলো এ নিয়ে কোন কথা বলছে না।

সামান্য একটু দেশ মায়ানমার তারা তাজা তাজা মুসলিম মানুষগুলোকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের চোখের সামনে হত্যা করছে। এতে কি সারা বিশ্বের মুসলিমদের বিবেকে একটু নাড়া দেয় না? চোখের সামনে হত্যা করা হচ্ছে শত শত মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুদের। হত্যা করা হচ্ছে তাজা যুবকদের, ধর্ষণ করা হচ্ছে মুসলিম যুবতীদের। বাড়িঘরে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে আগুন।

অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের রাজা এবং রাজপুত্রের কাজ হলো নারী, গাড়ি, বড় বড় বাড়ি, আর আনন্দ বিলাস করা, তারা লোক দেখানো নামাজ রোজা করে, আর এসির মধ্যে থেকে মোনাজাতে বলে আল্লাহ মৃত্যুর সময় আমাকে এসির মধ্য রেখে মৃত্যু দিয়ো।

আমরা দেখছি যে আজ মুসলমানদের সারা বিশ্বে বিপর্যয় চলছে। অথচ যারা একটু ক্ষমতা ধর রাষ্ট্র তারা নিরবতা পালন করছে। আমাদের সম্মানিত দেশ হলো সৌদি আরব, কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি তারা মুসলিম বিপর্যয় লাঘবের জন্য কোন কাজ করছে না।

এক হজের মৌসুমে সৌদি সরকার যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে একটি দেশ পরিচালিত হতে পারে। আমাদের ওআইসি রাষ্ট্রগুলো চুপ কেন? এভাবে চুপ থাকতে থাকতে শেষ হল ইরাক, শেষ হলো লিবিয়া, আফগান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন, প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে ভারতের মুসলিমরা। এরপরও চুপ থাকেন বড় বড় দেশগুলো। এভাবে চুপচাপ থাকলে মুসলিম নেতাদের উপর আস্থা হারিয়ে ঘৃণার চোখে দেখবেন মুসলিম উম্মাহ এবং ইসলামের উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। আল্লাহ এরং তার রাসুল বলেন, তোমরা আগে কাহারো উপর আক্রমণ করো না এবং তোমাদের উপর আক্রমণ হলে তোমরা তাহা প্রতিহত কর।

মসজিদে বসে শুধু মোনাজাতে আল্লাহ মুসলমানদের রক্ষা কর,রক্ষা কর, বললেই মুসলমানরা রক্ষা পাবে? এমনটা নয়। এর জন্য দরকার আধুনিক অস্ত্র। আজ বিশ্বের যতগুলো দেশ অস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ তারাই বিধর্মী। আর তাদের কাছে মাথানত করে আছি আমরা মুসলিমরা। এর প্রধান কারণ হলো মুসলমানরা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহই তাদের রক্ষা করবেন কিন্তু আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তোমরা চেষ্টা করো আমি বাকিটা দেখবো। যাহার উদাহরণ হলো উহুদের যুদ্ধ, বদরের যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ, তখন ছিল ঢাল তলোয়ারের যুদ্ধ। আর তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। কাফের মুসরিক ছিলো হাজার হাজার কিন্তু এখন তো আধুনিক যুগ এখন তো আর তাহা চলবে না। আল্লাহর রাসূল যদি যুদ্ধ করতে পারে তাহলে আমরা তো কিছুই না। আমরা কেন এত আরাম আয়েশ খুঁজি। সকল মুসলিমদের উচিত একযোগে কাজ করা এবং আল্লাহ ও রাসূলের আদর্শে পথ চলা। না হলে মুসলমানদের মার খেতে হবে। বিশ্বের সকল মুসলমান যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামকে রক্ষার প্রচেষ্টা না করে, তাহলে খুব শীঘ্রই মুসলমানা আরও বেশি নির্যাতনের শিকার হবে।

 


এই বিভাগের আরো খবর

  • মাতৃত্ব কোনো পেশা নয়: প্রিয়তি

  • সামাজিকতা,না কি সামাজিক ব্যাধি!

  • অতি সামান্য অংক

  • প্রিয় শিক্ষামন্ত্রী! প্লিজ, অপ্রিয় হলেও শুনুন

  • রোহিঙ্গা সংকটে বন্ধুদেশের সমর্থন পায়নি বাংলাদেশ

  • মধ্যপ্রাচ্য কি ধ্বংসের শেষ প্রান্তে?

  • বিবাহিত নারীর পরকীয়া!

  • ‘মাস্টার সাহেবের ছেলে এসপি হয়েছে’

  •