,


রূপা, তুমি ক্ষমা করো না

আর নিতে পারছি না, একদমই নিতে পারছি না।

রূপা, তোমাকে বোন বলব, মা বলব, কন্যা বলব—তার

ন্যূনতম অধিকারও আমাদের নেই। নেই ক্ষমা

চাওয়ারও তিলমাত্র ন্যায্যতা। লানতের থু তু দেবে?

তারও উপযুক্ত পাত্র আমরা নই। আমরা তো

গণশৌচাগারেরও অধম।

রূপা, তুমি ক্ষমা করো না, কিছুতেই ক্ষমা করো না আমাদের,

বরং অব্যর্থ অভিশাপ দাও মহাবিশ্ব কাঁপানো চিৎকারে।

বলো, ‘হে স্রষ্টা, হে অশরীরী মহাশক্তি, হে আদিপুরুষ, হে আদি নিদান,

এই মনো-নপুংশক নিপতিত জাতিকে নপুংশক-কায়া করে

দাও। করে দাও ওদের অন্ধ-বধির, লোলুপ-রসনাহীন

অসাড়-অনড়। উপাঙ্গ যদি অঙ্গের অধিরাজ হয়, তবে তাকে

ছেঁটে ফেলা বিধেয় হবে না কেন? কেন তাকে বানাবে না তুমি

অঙ্গার-ছাইভস্ম? সে কি তোমার প্রতিভূ হতে পারে? অথবা প্রতিবিম্ব?’

বলো, ‘হে ধর্মের রক্ষক, তুমি না যুগে যুগে ফিরে আস? তুমি না

সর্বদ্রষ্টা? এখনও কি তবে ধর্মের গ্লানির ষোলকলা পূর্ণ হয়নি?!

এখনো কি ঢের বাকি?! আমার রক্তাক্ত যোনি, দলানো স্তন,

থেঁতলানো মস্তকে কোনোই গ্লানি দেখছো না তুমি?! দেখছো না

কোনো অধর্মের জয়?!

তবে কেন আসছো না পরশুরামের কুঠার নিয়ে? কোথায়

তোমার সর্বসংহারি ব্রহ্মাস্ত্র? কার জন্য এসব

রেখেছ গুদাম-বন্দি করে?’

রূপা তুমি অভিশাপ দাও, অভিশাপ দাও।

যদি না দাও, তবে আমি অভিশাপ দিচ্ছি,

এই খোঁজা রাষ্ট্র-সমাজের নিয়ন্ত্রক পুরুষতন্ত্রের

গোটা অবয়বে, হাত-পা-চোখ-কান-নাক-মুখ-বুক-পেট-নিতম্ব-জঙ্ঘা…

সর্বত্র প্রতিস্থাপিত হোক তোমার রক্তাক্ত যোনি, দলানো স্তন, থেঁতলানো

মস্তক। নিজে নিজে চেটে খাক গ্লানির শুক্রাণু। পুড়ে-গলে নিশ্চিহ্ন

হোক এই জান্তব জতুগৃহ, বায়ুপুত্রের লেজাগ্নিতে যেভাবে জ্বলেছিল

সীতা-হর রাবণের লঙ্কা।